গোল ও অ্যাসিস্টে জাদুকরী বিদায় নিলেন মেসি

ফুটবলের জাদুকর লিওনেল আন্দ্রেস মেসি দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক ইতি টানলেন। বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে বিদায়ী ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে। ম্যাচে নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্টও করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এর মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে ২০৮টি ম্যাচ খেলে ১২৬ গোল ও ৬৯টি অ্যাসিস্ট নিয়ে নিজের আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ করলেন তিনি। মেসির বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনাও করেছে উৎসবটা আরও বড়—বেনিনকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে। আজ সারা বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থকের সামনে মাঠে নেমে জাতীয় দল থেকে নিজের বিদায়টা আনুষ্ঠানিকভাবেই রাঙালেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। তবে শেষ মুহূর্তে শারীরিক নিয়ন্ত্রণ হারানোয় কাঙ্ক্ষিত ফিনিশিংটি করতে পারেননি। গোল করার পরপরই ওতামেন্দিকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে মেসি জ্বলে ওঠেন। ৪৮ মিনিটে তার নেওয়া কর্নার থেকে নিকোলাস ওতামেন্দি দুর্দান্ত ভলিতে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। এটি ছিল ওতামেন্দিকে কেন্দ্র করে সাজানো এক আবেগঘন মুহূর্ত, কারণ তিনিও বিদায়ী ম্যাচ খেলছিলেন। এরপর ৬১ মিনিটে মেসির নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন নিকো পাজ, যাকে আর্জেন্টিনার ফুটবলের ভবিষ্যৎ ‘১০ নম্বর’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাজ তার এই গোলটি উৎসর্গ করেন মেসির বিদায়ী রাতকে। ম্যাচের ৭১ মিনিটে বেনিনের বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা, যা থেকে জোরালো শটে গোল করে নিজের ১২৬তম আন্তর্জাতিক গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন মেসি। ৬১ মিনিটে বাঁ দিক থেকে মেসির বাড়ানো বল পেয়ে গোলপোস্টের দিকে ঘুরে বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান নিকো পাজ। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের তিন গোলেই সরাসরি অবদান রেখেছেন মেসি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য মেসির পাসেই খুলে যায় গোলের দরজা।

মেসির আন্তর্জাতিক যাত্রার শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে। ২০০৬ সালের ১ মার্চ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে তিনি তার ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটি পেয়েছিলেন। একই বছর সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অধ্যায় শুরু করা মেসি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিজের জায়গা ধরে রেখেছিলেন। বিশ্বকাপে মোট ২১টি গোল করেছেন এই কিংবদন্তি। জাতীয় দলের জার্সিতে তার বড় সাফল্যের তালিকায় রয়েছে ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের গৌরব।

বিদায়ী ম্যাচে গ্যালারিজুড়ে ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। ম্যাচজুড়ে অসংখ্য রেকর্ড গড়া মেসি শেষ রাতেও নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখে সতীর্থদের ঘেরা বৃত্তে উদযাপনের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখলেন। চার চারটি বড় শিরোপা ও অগণিত রেকর্ড নিয়ে মাঠ ছাড়ার সময় তিনি পেলেন কোটি ভক্তের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।