শাই হোপের শতকে ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশাল জয়

রাঁচিতে অনুষ্ঠিত পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুক্রবার ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছেন সফরকারীরা। এই জয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের দেওয়া ২৫০ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে ১৮.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ২৫২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে ক্যারিবীয়রা। বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খায় ক্যারিবীয়রা।

জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিল ১০ রান। একই সঙ্গে শাই হোপের সেঞ্চুরি পূর্ণ করতেও প্রয়োজন ছিল ১০ রান। অক্ষর প্যাটেলের করা সেই ওভারের প্রথম বলে হোপ ছক্কা হাঁকান। এরপর পরের বলটি ঠেকিয়ে দিলেও তৃতীয় বলে ওয়াইড লং অন দিয়ে আবারও ছক্কা মেরে নিজের সেঞ্চুরি এবং দলের জয় উদ্‌যাপন করেন। ৪৫ বলে ৬টি চার ও ৯টি ছক্কায় ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। ১০ রানের আরেকটি হিসাবও ছিল, সেঞ্চুরি থেকে যে ওই দূরত্বেই ছিলেন শাই হোপ। ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করে দলকে ৯ বল হাতে রেখেই দলকে ৬ উইকেটের জয় এনে দিলেন অধিনায়ক। পরের বলটাকে এক্সট্রা কাভারে ঠেলেও রান নিলেন না ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অধিনায়ক। পরের বলেই তার শিকার হন শিমরন হেটমায়ার। তখনো অবশ্য জয়ের জন্য ৭২ রান প্রয়োজন ছিল ক্যারিবীয়দের।

বিশাল রান তাড়ার শুরুতে মায়াঙ্ক যাদবের তোপে মাত্র ৫ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর হোপ ও রোভম্যান পাওয়েল বিপর্যয় সামলানোর চেষ্টা করেন। পাওয়েল ১৩ বলে ২৪ রান করে ফিরলে ৫৮ রানে ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা। পরবর্তীতে রাদারফোর্ডকে সঙ্গে নিয়ে হোপ পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। তাদের ৫৪ বলে ১২০ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। রাদারফোর্ড ৩৭ বলে ৮৪ রান করে আউট হন।

জয়ের পথে বাকি কাজটুকু সারেন রোমারিও শেফার্ড। তিনি ১৩ বলে অপরাজিত ৩৪ রান করেন এবং হোপের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ২৬ বলে অবিচ্ছিন্ন ৭৪ রানের জুটি গড়েন। ভারতের মায়াঙ্ক যাদব ৩৬ রানে ৩ উইকেট নিলেও অক্ষর প্যাটেল ৩.৩ ওভারে ৬৩ রান খরচ করেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান সংগ্রহ করে ভারত, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। সঞ্জু স্যামসন ৪১ বলে ৮২ রান এবং ঈশান কিষান ২২ বলে ৪৩ রান করেন। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের ৪৩ বলে ৯৭ রানের জুটি বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। ১৫তম ওভারে কুলদীপ যাদবের বলে রাদারফোর্ড ফিরলেও ততক্ষণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ১৭৮ রান।

মাঝের ওভারগুলোতে রোস্টন চেজের ঘূর্ণিতে ভারত কিছুটা চাপে পড়লেও শেষ দিকে শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক ভার্মা ঝড় তোলেন। চেজ ২৪ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন। অন্যদিকে আইয়ার ১৮ বলে ৪০ এবং তিলক ভার্মা ১৮ বলে অপরাজিত ৪৪ রান করেন। তাদের দুজনের পঞ্চম উইকেট জুটিতে মাত্র ৩২ বলে আসে ৮৩ রান।