ইংল্যান্ড বধের দিনে অনন্য রেকর্ড গড়লেন পাক তরুণ মিনহাস

ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৮৭ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন দলের জয়ে কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আরাফাত মিনহাস। ম্যাচটিতে তিনি এমন এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন, যা ক্রিকেটের ৫৫ বছরের ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি। তরুণ এই অলরাউন্ডারের পারফরম্যান্সে ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য সহজ হয়ে ওঠে। শ্রীলঙ্কার পর ইংল্যান্ডকেও গুঁড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান অবশ্য ইংলিশদের বিপক্ষে বিপদেই পড়ে গিয়েছিল। এখানেই মিনহাস দেখিয়েছেন তার কারিশমা। পাকিস্তানের হয়ে এটি তার মাত্র পঞ্চম ওয়ানডে।

ম্যাচের শুরুর দিকে পাকিস্তান চাপে পড়েছিল, যখন ১৩১ রানের মধ্যেই দলটি ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। সেখান থেকে মিনহাস সাতে ব্যাট করতে নেমে দলকে টেনে তোলেন। তিনি ৫৮ বলে ৫৯ রানের এক কার্যকরী ইনিংস উপহার দেন। তার সঙ্গে হাসান নওয়াজ ৭৪ বলে ৭৯ রানের ইনিংস খেলে দলকে বড় পুঁজি গড়ে দেন। পরবর্তীতে ফাহিম আশরাফের সাথে মিনহাসের জুটির সৌজন্যে পাকিস্তান ৩০২ রানের লড়াকু স্কোর সংগ্রহ করে। হাসানের বিদায়ের পর ফাহিম আশরাফের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ এক জুটি গড়েন মিনহাস। মিনহাস পরে বল হাতেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। নিজের অভিষেকে ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন, এবার দুমড়ে মুচড়ে দিলেন ইংলিশদের। তালিকায় তার পরে আছেন স্কটল্যান্ডের জশ ডেভি।

৩০৩ রান তাড়া করতে নামা ইংল্যান্ড এক পর্যায়ে ১ উইকেট হারিয়ে ১২০ রানে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। তবে সেখান থেকেই মিনহাস তার ঘূর্ণি জাদু শুরু করেন। ইংল্যান্ডের শেষ নয়টি উইকেটের ছয়টিই তুলে নেন তিনি। সেট ব্যাটসম্যান টম ব্যান্টনকে (৫৭) ফেরানোর পর একে একে হ্যারি ব্রুক, জর্ডন কক্স, উইল জ্যাকস, জেমি ওভারটন এবং আদিল রশিদকে সাজঘরে পাঠান। ৯৫ রানের ব্যবধানে বাকি ৯ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড গুটিয়ে যায়। সেখান থেকে আর ৯৫ রান যোগ করতেই অলআউট হয় ইংলিশরা। উইকেটে দারুণভাবে সেট হয়ে যাওয়া টম ব্যান্টনকে (৫৭) ফেরান প্রথমে। এরপর একে একে হ্যারি ব্রুক (৫), জর্ডন কক্স (১৮), উইল জ্যাকস (১৯), জেমি ওভারটন (১) ও আদিল রশিদ (০)।

নিজের পঞ্চম ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নামা ২১ বছর ২৯১ দিন বয়সী মিনহাস এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেকেও পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন। এবার ওয়ানডে ইতিহাসের সপ্তম এবং পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে একই ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি ও ৬ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি। বিশেষ করে তার বয়সের বিষয়টি এই রেকর্ডকে অনন্য করেছে, কারণ এই তালিকায় থাকা অন্য সকল খেলোয়াড় কমপক্ষে ২৬ বছর বয়সে এই কীর্তি গড়েছিলেন। ২১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের ওয়ানডেতে এটি দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট। তবে তার কীর্তি যে কারণে অনন্য, সেটা হলো তার বয়স।

তালিকায় থাকা অন্যরা হলেন—২০১৫ সালে ২৪ বছর ১৬৪ দিন বয়সে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫৩ রান ও ৬ উইকেট নেওয়া জশ ডেভি, ১৯৯৭ সালে ২৬ বছর ৬৩ দিন বয়সে ল্যান্স ক্লুজনার, এবং ২৬ বছর ১৯৫ দিন বয়সে পল স্টার্লিং। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের স্কট স্টাইরিস ২০০২ সালে ২৬ বছর ৩৩৭ দিন বয়সে এবং ইংল্যান্ডের পল কলিংউড ২০১৫ সালে ২৯ বছর ২৬ দিন বয়সে একই কীর্তি গড়েছিলেন। এই তালিকার সবচেয়ে বেশি বয়সে ৬ উইকেট ও হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ডটি শাহিদ আফ্রিদির, যিনি ২০১৩ সালে ৩৩ বছর ১৩৫ দিন বয়সে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৯৯৭ সালে লাহোরে তিনি ৫৪* রান ও ৬ উইকেট নেন।