লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে খাম খুলে জয়ীর নাম ঘোষণা করেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো। মঞ্চ থেকে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের নাম আসতেই চারপাশ ‘হ্যারি, হ্যারি’ উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে। লামিন ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপেকে পেছনে ফেলে ফুটবলের সর্বোচ্চ এই ব্যক্তিগত মর্যাদা অর্জন করেন তিনি। এর মাধ্যমে গত ২৫ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো ইংরেজ পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জয়ের ইতিহাস গড়লেন কেইন।
সম্মাননা হাতে পেয়ে কেইন নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি প্রায় ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আয়োজনটি লন্ডনে হওয়ায় এটি আমার জন্য আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। মনে হচ্ছে আজকের রাতটি একটি বিশেষ সংকেত নিয়ে এসেছে। বিচারক হিসেবে যারা আমাকে বেছে নিয়েছেন, তাদের অশেষ ধন্যবাদ। এ বছর লড়াইটা অত্যন্ত কঠিন ছিল বলে আমি মনে করি।’ তিনি উপস্থিত বিশ্বমানের তারকাদের অভিনন্দন জানিয়ে যোগ করেন, ‘ধারাবাহিক জেদ ও কঠোর পরিশ্রম যে সাফল্য এনে দেয়, আজকের রাতটি তার বড় প্রমাণ।’
২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন কেইন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি মোট ৭৩টি গোল করেছেন। সাম্প্রতিক মৌসুমের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বিচারকরা বিজয়ী নির্বাচন করলেও বায়ার্ন মিউনিখে তার সার্বিক রেকর্ড বেশ সমৃদ্ধ। ২০২৩ সালে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর ১৫৮ ম্যাচে কেইনের গোলসংখ্যা ১৫৬টি, যা তাকে বায়ার্নের ইতিহাসের সপ্তম সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। খেলোয়াড়দের র্যাঙ্কিং নির্ধারণে বিচারকদের কেবল সাম্প্রতিক মৌসুমটিই বিবেচনায় নিতে বলা হলেও ২০২৩ সাল থেকে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ১৫৮ খেলায় কেইনের চোখধাঁধানো ১৫৬টি গোল তাকে এই জার্মান ক্লাবের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালি।
টানা তিন মৌসুম ধরে বুন্দেসলিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকা কেইন ২০২৫-২৬ মৌসুমে ইউরোপজুড়ে শীর্ষ ক্লাব গোলদাতাও ছিলেন। পাশাপাশি জাতীয় দলকে ১৯৯৬ সালের পর সর্বোচ্চ সাফল্য এনে দিতে মূল ভূমিকা রাখেন তিনি। তার নেতৃত্বে ইংল্যান্ড বিশ্বমঞ্চে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ জিতে ব্রোঞ্জ মেডেল লাভ করে, যেখানে তিনি আসরের পঞ্চম সর্বোচ্চ সংগ্রাহক হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করেন। এছাড়া কেইন তার দেশকে ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে তাদের সেরা সাফল্য এনে দেওয়ার ক্ষেত্রেও মূল ভূমিকা পালন করেছেন।

