নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণে ইসরায়েলে চলছে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে ইসরায়েলের নাগরিকেরা আজ নতুন নির্বাচনের জন্য ভোট দিচ্ছেন। এই নির্বাচনের ফলাফল দেশটির দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। ভোট শুরুর প্রথম পাঁচ ঘণ্টায় ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটদান হয়েছে, যা ১৯৭৭ সালের পর একই সময়ের হিসাবে সর্বোচ্চ হার। ইসরায়েলের সংসদে আসনসংখ্যা ১২০।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন সেই ভয়াবহ হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পর ইসরায়েলে এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন। এরপর গাজায় সামরিক অভিযান, লেবানন সীমান্তে সংঘাত এবং ইরানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

প্রায় ১৯ বছর বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর জোট এবার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির নিরাপত্তা ব্যর্থতার কারণ উদ্ঘাটন এবং সরকারের আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে নেতানিয়াহু নিজের দীর্ঘদিনের যুদ্ধকালীন নেতৃত্বের পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনকে নিজের সাফল্যের অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন। ট্রাম্প ইরানকে মোকাবিলায় নেতানিয়াহুর পাশে থাকার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। ইসরায়েলের দীর্ঘতম সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতা নেতানিয়াহু প্রায় ১৯ বছর বিভিন্ন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নির্বাচন ঘিরে বড় বিতর্কের জায়গা হলো ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা। বিরোধীরা এ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানালেও বর্তমান সরকার তাতে সম্মতি দেয়নি। আইজেনকট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, সরকার গঠন করতে পারলে তিনি ১৮ মাসের মধ্যে হামাসের সামরিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা ভেঙে দেবেন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগগুলো শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন। এছাড়া সরকারের উগ্র ডানপন্থী অংশীদারদের নীতি এবং যুদ্ধ পরিচালনার ধরণ নিয়ে জনগণের একাংশের মধ্যে বেশ অসন্তোষ রয়েছে। নির্বাচন ঘিরে জনমতের অন্যতম প্রধান প্রশ্ন ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতা।

ইসরায়েলি পার্লামেন্টে আসনসংখ্যা ১২০টি। সরকার গঠন করতে হলে কোনো দলকে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে হয়। বর্তমান জনমত জরিপ অনুযায়ী দুই পক্ষের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব বংশোদ্ভূত নাগরিকদের ভোটের হারও ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিরোধী শিবিরের আইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোটে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। শেষ পর্যন্ত কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন অথবা দেশটিতে নতুন করে নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে। তাদের বেশি অংশগ্রহণ বিরোধী জোটের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। জনমত জরিপে দুই পক্ষের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কাছাকাছি থাকায় কোনো শিবিরই সহজে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।