ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে সুদ, সার্ভিস চার্জ ও জামানতবিহীন ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন। এই মানবিক কার্যক্রমের আওতায় ১৬৮ জন নারীকে সর্বমোট ৩০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বাঞ্ছারামপুরের আকানগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এটি ছিল বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ৮৫তম ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠান। দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের এই ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ গ্রামীণ নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে গত দুই দশক ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তাদের নিজস্ব স্বপ্নগুলো বারবার থমকে গেলেও, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের এই সহায়তা তাদের জীবনে নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে। ঋণগ্রহীতাদের প্রতি আমার অনুরোধ, এই টাকা কোনো অবৈধ কাজে না লাগিয়ে সৎ পথে বৈধ আয় বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করুন।’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী। এছাড়া বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাছিমুল হাইও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনে উপস্থিত বক্তারা বসুন্ধরা গ্রুপের এই উদ্যোগকে একটি অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন। মো. চাঁনমিয়া সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের ডিজিএম মাইমুন কবির, ডেপুটি ম্যানেজার মোশাররফ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাছিমুল হাই বলেন, গ্রামীণ নারীরা প্রায়ই চড়া সুদের ঋণের ফাঁদে পড়ে বিপাকে পড়েন। তবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে তারা কোনো বাড়তি চাপ ছাড়াই মূলধন পাচ্ছেন, যা তাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, শুধু ঋণ বিতরণ নয়, বরং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির ইতিবাচক পরিবর্তনে এই কার্যক্রম কাজ করছে। শুধু ঋণ বিতরণ নয়, বরং শিক্ষাবৃত্তি, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রশিক্ষণ, সেলাই মেশিন বিতরণ এবং নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও গ্রুপটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।’।
ঋণ গ্রহণকারী উপকারভোগীরা জানান, এই আর্থিক সহায়তা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নবীনগর উপজেলার থোল্লাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা শিল্পী আক্তার বলেন, এই টাকা দিয়ে তিনি তার পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানোর পরিকল্পনা করছেন। বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলার এসব নারীরা সাধারণত পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তাই এই সহায়তা তাদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। ঋণ পেয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান উপকারভোগীরা।
ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৬৮ জন উপকারভোগীর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা চার পর্যায়ে বিতরণ করা হয়। প্রথম ধাপে ৫০ জনকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় ধাপে ২২ জনকে ১৫ হাজার টাকা করে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা, তৃতীয় ধাপে ২১ জনকে ২০ হাজার টাকা করে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং চতুর্থ ধাপে ৭৫ জনকে ২০ হাজার টাকা করে ১৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।

