ইরানের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ এবং বন্দর লেঙ্গেহতে মঙ্গলবার ভোরে বড় ধরনের কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
স্থানীয় সময় ৩ নভেম্বর ভোররাতে এই ঘটনা ঘটে বলে ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার ভাষ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপে অন্তত পাঁচটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া আধা-সরকারি সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিকট শব্দ ভেসে এসেছে। তবে এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন বলছে, ইরানকে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত থেকে বিরত রাখতে মার্কিন বাহিনী কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা এসব অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে দাবি করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে ইরানের জাহাজ হামলার সক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় কোনো যুদ্ধের আশঙ্কা নাকচ করেছেন। সোমবার সাংবাদিকদের তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে লড়াইয়ে তারা জয়ী হয়েছেন এবং গত কয়েক মাস ধরে সরাসরি কোনো সংঘাত চলছে না। ট্রাম্প অবশ্য এটিকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করতে নারাজ। এমন এক সময়ে বিস্ফোরণের খবর সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা আমি জানি না। এর জবাবে ইসরায়েল এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান।
এদিকে, দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় তেহরান ও ওয়াশিংটন নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান করছে। এই যোগাযোগের প্রক্রিয়া সহজ করতে কাতারের রাজধানী দোহায় সফর করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি।
উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা শুরু হয়। পরবর্তীতে এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছায় দুই পক্ষ। এরপর ১৮ জুন হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিতে একটি সমঝোতা স্মারক সই করা হলেও, প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখনো থমকে আছে।

