৬ নভেম্বর মঞ্চস্থ হচ্ছে জসীমউদ্দীনের সোজন বাদিয়ার ঘাট

বাংলা নাট্যমঞ্চে নতুন এক নান্দনিক প্রযোজনার সংযোজন করতে যাচ্ছে নাট্যদল ‘নবরস’। পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের কালজয়ী আখ্যানকাব্য ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ অবলম্বনে তাদের পঞ্চম প্রযোজনাটি মঞ্চে আসছে। আগামী ৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ মহিলা সমিতি মিলনায়তনে নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গত ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটারে নাটকটির একটি সফল কারিগরি মঞ্চায়ন সম্পন্ন হয়েছে। নাটকটির নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা।

১৯৩৩ সালে প্রকাশিত জসীমউদ্দীনের এই অমর আখ্যানকাব্য তৎকালীন গ্রামীণ সমাজের প্রেক্ষাপটে রচিত। উপন্যাসের মূল উপজীব্য হলো হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং দুই ভিন্নধর্মী তরুণ-তরুণীর করুণ প্রেমকাহিনি। গড়াই বা মধুমতী নদীর তীরে অবস্থিত ‘শিমুলতলী’ গ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এর কাহিনী। শৈশবের খেলার সাথী সোজন ও দুলীর বন্ধুত্ব একসময় গভীর প্রেমে রূপ নেয়, কিন্তু স্থানীয় নায়েবের চক্রান্ত ও ধর্মীয় কুসংস্কার তাদের সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

পরিবার ও সমাজের কঠিন দেয়াল পেরিয়ে সোজন ও দুলীর সম্পর্কের পরিণতি কী হয় এবং কেন নদীর সেই তটভূমি পরবর্তীতে মানুষের কাছে ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ নামে পরিচিতি পেল, নাটকটিতে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে। সমাজ ও ধর্মের সংকীর্ণতা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার লড়াই উঠে এসেছে মঞ্চের এই আখ্যানে।

নাটকটির নির্মাণে ও অভিনয়ে একদল নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী কাজ করেছেন। এর প্রধান কলাকুশলীদের তালিকায় রয়েছেন— আফিয়া জামান সৃজা, কাশিফ আলফি আহমেদ, সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা, ইউসুফ রাসেল, নাজমুল হাসান শুভ, নাজমুল হক বাবু, শাখাওয়াত হোসেন শিমুল, হামীম সুলতান, মোহাম্মদ ইমরান খান, গোলাম মোর্শেদ, রাজীব চন্দ্র দাস, এম শাহজাদা, ওমর ফারুক, বন্যা, সুকন্যা সাকিরা এবং দেবাদ্রিতা সরকার বাঁধন।