ফাইনালের চেয়েও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে

দীর্ঘ ২৪ বছর পর পুরুষদের ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফিরছে আফ্রিকার মাটিতে। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসর ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উন্মাদনা। টুর্নামেন্ট শুরু হতে এখনো অনেকটা সময় বাকি থাকলেও টিকিটের জন্য বিশ্বজুড়ে চলছে তুমুল হাহাকার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) তথ্যানুসারে, এবারের বিশ্বকাপে টিকিটের চাহিদা সব রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে। বিশেষ করে গ্রুপ পর্বে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি দর্শক চাহিদার শীর্ষে রয়েছে।

আইসিসির তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। একই ভেন্যুতে ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ। অবাক করা বিষয় হলো, যেখানে ফাইনালের জন্য প্রায় ৮০ লাখ টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে, সেখানে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের জন্য আবেদন এসেছে ৮৪ লাখের বেশি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দলের লড়াই যে বিশ্বজুড়ে কতটা আগ্রহ তৈরি করেছে, এই পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ দেয়।

বিশ্বব্যাপী বিশ্বকাপের টিকিটের আবেদন ১২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ১৯৩টি দেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ টিকিটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এই চাহিদা কেবল ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচেই সীমাবদ্ধ নয়; অন্যান্য ম্যাচেও টিকিটের আবেদন বিপুল। যেমন—২৪ অক্টোবর ভিক্টোরিয়া ফলসে অনুষ্ঠিতব্য জিম্বাবুয়ে-ভারত ম্যাচের জন্য ৩৩ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। পাশাপাশি, ৮ অক্টোবর উইন্ডোহকে ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ ম্যাচের জন্য টিকিট চেয়ে আবেদন করেছেন প্রায় ৯ লাখ দর্শক। সামগ্রিকভাবে বিশ্বকাপের টিকিট পেতে এখন পর্যন্ত ১৯৩ দেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ সমর্থক নিবন্ধন করেছেন।

আগামী বছর ২ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত ১৪ দলের অংশগ্রহণে এই বিশ্বকাপ চলবে। ১২টি স্বাগতিক শহরের ৫৭টি ম্যাচের টিকিট পেতে আবেদন গ্রহণ চলবে চলতি বছরের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। আইসিসির ইভেন্টস অ্যান্ড অপারেশনস জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনা দর্শকদের এই সাড়াকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে অভিহিত করেছেন। আফ্রিকার মাটিতে বিশ্বকাপের প্রত্যাবর্তন যে দর্শকদের মনে উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে, টিকিটের এই রেকর্ডভাঙা চাহিদাই তার সবচেয়ে বড় সাক্ষী। সব মিলিয়ে ১২টি স্বাগতিক শহরের ৫৭ ম্যাচের জন্য টিকিটের আবেদন গ্রহণ চলবে চলতি বছরের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত।