আগামী ডিসেম্বর মাসে মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরুর প্রত্যাশা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, বিজয়ের মাসে প্রথম ধাপে দুই থেকে তিনটি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে এফডব্লিউসিএমএসে তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, নতুন এই প্রক্রিয়ায় বিদেশগামী কর্মীদের ওপর আর্থিক কোনো চাপ থাকবে না। কর্মীদের যাতায়াতসহ যাবতীয় খরচ সংশ্লিষ্ট বিদেশি নিয়োগকর্তা বা তাঁদের প্রতিষ্ঠান বহন করবে। প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ করতে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ওপর থাকা কিছু সার্ভিস চার্জও তুলে নেওয়া হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো কর্মী পাঠানোর সুযোগটি নির্দিষ্ট কিছু এজেন্সির হাতে সীমাবদ্ধ না রাখা। এ বিষয়ে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মন্ত্রী। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়োগকর্তাদের চাহিদাপত্র অনলাইনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট দেশের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে। এছাড়া কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা দিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সিকে মন্ত্রণালয়ে অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে।
বিদেশে কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে পৃথক সেল গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা সরাসরি সহায়তা পাবেন এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত ফির বেশি টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোনো প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত অর্থ নিলে তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মালিকদের তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর খাতকে যেন একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নেওয়া হয়। কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ীর কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো খাতের যেন দুর্নাম না হয়, সেদিকে সজাগ থাকতে বলেছেন তিনি। এছাড়া বিদেশে পাঠানোর আগে কর্মীদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন সম্পর্কে সচেতন করতে এজেন্সিদের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বহীন আচরণ প্রবাসীদের ভিসা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন, মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা।

