জাতীয় দলের একাদশে অনিয়মিত হয়ে পড়ার পর থেকেই জামাল ভূঁইয়ার অধিনায়কত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছিল সমালোচনা। অবশেষে সেই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণের নাম ঘোষণা করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। দলের কোচ থমাস ডুলির উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সাফের সহকারী মিডিয়া ম্যানেজার জিগমে দর্জি আনুষ্ঠানিকভাবে তপুকে অধিনায়ক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। অন্য দলগুলোর চোখেও বাংলাদেশ শিরোপার অন্যতম দাবিদার। তবে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে কোচের পাশে দেখা যেতো তাকেই।
প্রায় এক দশক ধরে জাতীয় দলের নিয়মিত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা জামালের অনুপস্থিতিতে বা চোটের সময় সোহেল রানা ও তপু এর আগেও আর্মব্যান্ড পরেছেন। তবে এবারের সাফে তপু স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন কি না, এমন প্রশ্নে ডুলি বলেন, আমাদের দলে অধিনায়ক হওয়ার মতো তিনজন খেলোয়াড় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফুটবলে অধিনায়কত্ব নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনার কিছু নেই। এক ম্যাচে একজন অধিনায়ক হতে পারেন, আবার অন্য ম্যাচে আরেকজন। দলের একাধিক নেতা থাকাটাই স্বাভাবিক।
বাংলাদেশের সাফ জয়ের ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমান অধিনায়কের এক চমৎকার মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ যখন প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখন নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ডিফেন্ডার রজনীকান্ত বর্মণ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবারও একজন ডিফেন্ডার হিসেবে তপু বর্মণের কাঁধে উঠল সেই গুরুদায়িত্ব। ২০১৩ সালে অভিষেক হওয়ার পর জাতীয় দলের জার্সিতে ৭০টি ম্যাচ খেলা তপু রক্ষণভাগের পাশাপাশি এ পর্যন্ত ৮টি গোলও করেছেন, যা বর্তমান দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর তালিকায় রয়েছেন সাত গোল করা শেখ মোরসালিন, ছয় গোল করা রাকিব হোসেন এবং চার গোল করা হামজা চৌধুরী। গ্যালারিতে থাকবে সমর্থকদের প্রত্যাশা।
২০১৮ সালের পর আবারও ঢাকায় সাফ খেলার সুযোগ পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত তপু। শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তিনি বলেন, আমার লক্ষ্য নিজের সেরাটা দেওয়ার পাশাপাশি দলকে উজ্জীবিত রাখা। আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমরা সেই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিতে চাই। দলের কোচ থমাস ডুলিও দর্শকদের সমর্থনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং ভক্তদের প্রত্যাশাকে চাপ না ভেবে বাড়তি শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছেন।
ক্লাবের ছাড়পত্র না পাওয়ায় ভুটানের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে দলের সঙ্গে থাকছেন না তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী। তবে তার অনুপস্থিতিতেও বাংলাদেশ দলের লক্ষ্য জয়ের মাধ্যমে পথটা সহজ রাখা। এ প্রসঙ্গে অধিনায়ক তপু বলেন, হামজাকে অনেক মিস করব, এটা নিশ্চিত। তবে আমরা আগে থেকেই জানতাম যে সূচির কারণে প্রথম ম্যাচে তাকে পাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের মূল কাজ হবে জয়ী দলের সঙ্গেই যেন হামজা পরে যোগ দিতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা। ২০০৩ সালে সর্বশেষ শিরোপা জয়ের পর ২০০৫ সালের ফাইনালে উঠলেও বাংলাদেশ আর ট্রফি স্পর্শ করতে পারেনি। ২০১৮ সালের ঢাকা সাফেও ব্যর্থ হওয়ায় এবার ঘরের মাঠে দীর্ঘ শিরোপাশূন্যতা কাটানোর স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। বরং এই চাপ থেকেই ভালো ফল আসতে পারে বলে বিশ্বাস তাঁর।

