ক্লাবের ব্যস্ততার কারণে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে খেলতে পারেননি দেওয়ান হামজা চৌধুরী। তবে আগামী ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে দলে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ দল। ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। এই জয়ের নায়ক বদলি হিসেবে মাঠে নামা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ইব্রাহিম মনে করেন, হামজা চৌধুরীর উপস্থিতি দলের পুরো চিত্র বদলে দেবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এবিজে ফুটবল গ্রাউন্ডে অনুশীলনের ফাঁকে ইব্রাহিম বলেন, দলের বাইরে থাকা খেলোয়াড়রা যোগ দিলে শক্তি অবশ্যই বাড়বে, বিশেষ করে হামজা ভাই এলে দলের মোমেন্টাম বা পরিবেশ ইতিবাচকভাবে সম্পূর্ণ বদলে যাবে। মাঝে মধ্যে টিমে থাকলে খেলতে পারতাম না। মাঠের বাইরে থেকেই ম্যাচ ভালোভাবে রিড করতে পেরেছিলেন এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচশেষে ইব্রাহিমের কান্নার দৃশ্যটি বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। নিজের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম এবং দলের আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকাটা তাকে মানসিকভাবে চাপে রেখেছিল বলে জানান তিনি। গোলের পর পুরনো সেই খারাপ দিনগুলোর কথা মনে পড়ায় তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। গোল করার লক্ষ্য নিয়ে ইব্রাহিম বলেন, গোল পেতে নির্দিষ্ট কিছু মুহূর্তের সঠিক ব্যবহার প্রয়োজন। মাঠে খেলার সময় আমি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছিলাম যে ডি-বক্সে বল যাচ্ছে কিন্তু ফিনিশিং হচ্ছে না। তখন আমি নিজের জায়গা থেকে প্রস্তুত ছিলাম যেন বলটি আমার কাছে এলে তা দক্ষতার সাথে জালে জড়াতে পারি। আমার মূল লক্ষ্য ছিল সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকা এবং সেই সুযোগ কাজে লাগানো। ইব্রাহিম বিষয়টি খোলাসা করলেন, ‘অনেকদিন ধরে আমি টিমের মধ্যে আসা যাওয়ার মধ্যে ছিলাম। আসলে গোল করার পরে ওই খারাপ মোমেন্টগুলো বেশি মনে পড়ছিল। আমি সবসময় ওটাই কাজ করছিল গোলের পরে।’। আমার টার্গেট ছিল যে, আমি যদি এখানে থাকি ওই মোমেন্টে থাকি, যেকোনো মোমেন্টে আমি একটা দুইটা বল পাবো।
এর আগে ভুটান ম্যাচের জয়ের মধ্য দিয়ে অধিনায়ক তপু বর্মণের দেওয়া কথা রেখেছেন ফুটবলাররা।
তপু জানিয়েছিলেন, তারা হামজাকে জয় উপহার দিতে চান। পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে সাফ মিশন শুরু করার পর এখন লক্ষ্য সেমিফাইনালের দিকে। সেখানে বাংলাদেশ সম্ভবত ভারত কিংবা মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে। পরবর্তী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রস্তুতির বিষয়ে ইব্রাহিম জানান, একজন ফরোয়ার্ড হিসেবে সবসময় তার লক্ষ্য থাকে দলকে জেতানো, হয় গোল করা নতুবা গোল করানোর মাধ্যমে অবদান রাখা। টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোর পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোচ্ছি। কোচ ভারতের বিপক্ষে যে ধরনের নির্দেশনা দেবেন, সেই অনুযায়ী আমরা খেলব। আর মালদ্বীপের মুখোমুখি হতে হলেও একইভাবে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

