কক্সবাজারের চকরিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় মাস বয়সী শিশুসহ দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর সেনাবাহিনীর সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে ছয় মাস বয়সী শিশুটি মারা যায়।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে দুপুর ১২টার দিকে হারবাং স্টেশন এলাকায়। চকরিয়া থেকে একটি টমটম যোগে উত্তর হারবাং যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা সেনাবাহিনীর একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে টমটমচালকসহ পাঁচজন আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক ছয় মাস বয়সী শিশু আরহামকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আরহাম উত্তর হারবাংয়ের গয়ালমারা এলাকার বাসিন্দা বোরহান উদ্দিনের ছেলে। এ দুর্ঘটনায় আরহামের মা ফাহমিদা ইয়াসমিন লাকি, খালা উর্মী আক্তার, তিন বছর বয়সী বোন আরিশা জান্নাত এবং টমটমচালক জাফর আলম গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় তার মা ফাহমিদা ইয়াসমিন লাকি (২৩), খালা উর্মী আক্তার, তিন বছর বয়সী বোন আরিশা জান্নাত এবং টমটমচালক জাফর আলম গুরুতর আহত হন। তিনি জানান, হারবাং স্টেশনে সেনাবাহিনীর ডাবল কেবিন পিকআপের সঙ্গে টমটমের সংঘর্ষে চালকসহ পাঁচজন আহত হন।
একই সময়ে মহাসড়কের উত্তর হারবাং পেট্রোল পাম্প এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনায় মাহবুবুর রহমান (৬২) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ছৈয়দাবাদ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, তিন মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছিলেন মাহবুবুর। রোববার সকালে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে চকরিয়ায় এক বন্ধুর বাড়িতে যাওয়ার পথে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। তবে ঘাতক যানটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহতের ছেলে আবদুল আজিজ জানান, তার বাবা সৌদি আরবপ্রবাসী। নিহতের ভাগিনা সাংবাদিক ইলিয়াস আরমান জানান, দুপুরে মহাসড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে বন্ধুর বাড়িতে যাওয়ার সময় উত্তর হারবাং পেট্রোল পাম্পের কাছে পৌঁছালে একটি দ্রুতগতির যান মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনাটি সরাসরি কেউ দেখতে না পাওয়ায় ঘাতক যানটি শনাক্ত করা যায়নি।
চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার ইনচার্জ সার্জেন্ট জাকিবুল ইসলাম জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহত দুজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের প্রবণতার কারণেই প্রায়ই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

