পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌরসভা এবং এর অন্তর্ভুক্ত ১৫টি ইউনিয়নে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন উদ্দীপনা ও চাঙ্গা ভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত অনুযায়ী, গত কয়েক বছরের তুলনায় এই বছর কোরবানির পশু, বিশেষ করে গরু ও ছাগলের বেচাকেনা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। একই সাথে, দীর্ঘ সরকারি ছুটির কারণে ঈদের আনন্দ ও উৎসবের আমেজ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা গ্রামীণ জনপদে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
ঈদ উদযাপনের জন্য সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং প্রবাসীরা নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। এর ফলস্বরূপ, গ্রামের বাজার, হাট এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পোশাক, মুদি সামগ্রী, কসমেটিকস, মিষ্টি, জুতা এবং কোরবানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পণ্যের দোকানে বিক্রি আশাব্যঞ্জক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন রোডের মনিহারি ব্যবসায়ী পাপন মোদক জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে ক্রেতাদের ভিড় ছিল অত্যন্ত সন্তোষজনক। উপজেলার বিভিন্ন হাটে কোরবানির পশুর ব্যাপক কেনাবেচা হয়েছে, যার ফলে কৃষক, খামারি ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। গ্রামাঞ্চলে অর্থের প্রবাহ বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বস্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গফরগাঁও উপজেলার ৯ নম্বর পাঁচবাগ ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের বাসিন্দা মো. ফয়জুল্লাহ তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “অনেক দিন পর গ্রামের বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। চারদিকে কোরবানির পশু কেনাবেচা ও কোরবানি দেওয়ার দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে।” স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে যে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা উপজেলার সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করেছে। কোরবানির পশু বেচাকেনা বৃদ্ধি, বাজারে লেনদেনের প্রসার এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ইতিবাচক চিত্র গ্রামীণ অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থানেরই প্রতিফলন।
এ প্রসঙ্গে গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এন. এম. আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গফরগাঁও উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। সকলের মধ্যে একটি উৎসবের আমেজ সুস্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।
