পবিত্র ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, সহমর্মিতা এবং মানবকল্যাণকে ধারণ করে সমাজের গরিব, দুস্থ, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কুরবানির মাংস বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখা। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
গত বৃহস্পতিবার, পবিত্র ঈদের দিন, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার উত্তর জগন্নাথপুর এলাকার বোরহানাবাদে এই মহতী কর্মসূচিটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই আয়োজনে সহযোগিতা করেছে সামাজিক ও মানবিক সংগঠন শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ.) ইসলামী সোসাইটি (বিআইএস) মৌলভীবাজার। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শতাধিক মানুষের মধ্যে কুরবানির মাংস বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সমাজের অসচ্ছল মানুষের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অনেক পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে কুরবানির মাংস সংগ্রহ করতে পারে না। তাদের ঘরে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির শুরু থেকেই বসুন্ধরা শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবীরা মাংস প্রস্তুত, প্যাকেটজাতকরণ এবং বিতরণের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশে সুবিধাভোগীদের হাতে মাংসের প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। এই সহযোগিতা পেয়ে অনেকেই গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এমন মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে অব্যাহত রাখার জন্য আহ্বান জানান।
শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি এম মুহিবুর রহমান মুহিবের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিআইএসের মহাসচিব নাজমুল হোসাইন, শুভসংঘ মৌলভীবাজারের কার্যকরী পরিষদের সদস্য মাহবুব রহমান ইয়ামিম, রেদওয়ান আহমদ ছামীসহ উভয় সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবকরা।
শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি এম মুহিবুর রহমান মুহিব তার বক্তব্যে বলেন, “ঈদ কেবল একটি উৎসব নয়, এটি সামর্থ্যবানদের সঙ্গে অসহায় মানুষের হৃদ্যতার বন্ধন দৃঢ় করার একটি পবিত্র উপলক্ষ। সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে। কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা হলো ত্যাগের মাধ্যমে মানবতার সেবা করা, এবং সেই মহৎ চেতনাকে বাস্তবায়ন করতেই আমাদের এই উদ্যোগ।”
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময় মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সুরক্ষা, দুর্যোগকালীন সহায়তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সংগঠনটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাংস বিতরণ কর্মসূচিও তাদের সেই ধারাবাহিক জনসেবামূলক কার্যক্রমেরই একটি অংশ।
কর্মসূচি শেষে আয়োজকরা সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদের অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আন্তরিক আহ্বান জানান। তাদের মতে, ঈদের প্রকৃত আনন্দ তখনই পূর্ণতা লাভ করে, যখন সেই আনন্দ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনেও পৌঁছে যায়।
