দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী আবাসন খাত বর্তমানে এক ধরনের স্থবিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে এবং খাতটিকে পুনরায় গতিশীল করতে বাস্তবমুখী ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনরা। তাদের মতে, বর্তমান নীতিমালার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে যা এই খাতের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
আবাসন খাতের এই স্থবিরতা কেবল ডেভেলপারদেরই নয়, বরং সম্ভাব্য ক্রেতাদেরও প্রভাবিত করছে। এর ফলে নতুন নির্মাণ প্রকল্প কমে যাচ্ছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভাটা পড়ছে এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হচ্ছে না। বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতি এবং ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালার অভাবই এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি বাস্তবমুখী নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে তা এই খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে সহায়ক হবে। এই নীতিমালার আওতায় ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা, ফ্ল্যাট ও প্লট নিবন্ধনে উচ্চ কর কমানো, ব্যাংক ঋণের সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এছাড়াও, নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনেও নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।
আবাসন খাত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই শতাধিক সহযোগী শিল্পের সঙ্গে জড়িত। এই খাতের চাকা সচল থাকলে নির্মাণ শিল্প, সিমেন্ট, রড, টাইলস, স্যানিটারি ওয়্যারসহ অসংখ্য শিল্পে গতি আসে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একই সাথে, এটি বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে এবং আবাসন সংকট নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সংশ্লিষ্টরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, আবাসন খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করে একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা দ্রুত প্রণয়ন করা হোক। এই নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে খাত সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত গ্রহণ করা হলে তা আরও কার্যকর হবে এবং দেশের আবাসন খাতের টেকসই উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
