কিশোরগঞ্জ পুরানথানা মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের দীর্ঘ অনুপস্থিতি
কিশোরগঞ্জ শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাণবন্ত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পুরানথানা মোড়ে দীর্ঘকাল ধরে অনুপস্থিত রয়েছে একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্স। এর ফলস্বরূপ, প্রচণ্ড রোদ, কালবৈশাখীর ঝড়ো হাওয়া অথবা মুষলধারে বৃষ্টির মতো প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়েই নিরন্তর দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা হাজারো যানবাহন, পথচারী এবং কর্মব্যস্ত মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতে এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলটি মুখরিত থাকে। শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার প্রধান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখা এই মোড়ে একসময় একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্স ছিল। কর্তব্যরত ট্রাফিক সদস্যদের জন্য এটি ছিল কর্মব্যস্ততার ফাঁকে সামান্য স্বস্তির আশ্রয় এবং ক্লান্ত শরীর ও অবসন্ন মনকে পুনরুজ্জীবিত করে নতুন উদ্যমে দায়িত্বে ফেরার এক নির্ভরতার ঠিকানা। তবে সময়ের নিষ্ঠুর পরিক্রমায় সেই বক্সটি এখন কেবলই স্মৃতি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার কারণে পুরানথানা মোড়ের ট্রাফিক পুলিশ বক্সটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর পুনর্গঠন বা পুনঃস্থাপনের কোনো সুস্পষ্ট উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
দুঃখজনকভাবে, প্রশাসনিক তদারকির অভাব এবং দীর্ঘদিনের অবহেলার সুযোগে ধ্বংসপ্রাপ্ত সেই বক্সের স্থানটি বর্তমানে দখলদারদের দখলে চলে গেছে। সেখানে ফ্লেক্সিলোভ, ফলমূল, পান-সিগারেটসহ বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকানপাট গড়ে উঠেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, একসময় ব্যস্ত মোড়ের শৃঙ্খলা রক্ষার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাফিক বক্সটি সম্পূর্ণ ভেঙে-চুরে মাটির সঙ্গে মিশে সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। সেখানে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বেশ জমজমাট হয়ে উঠলেও কর্তব্যরত ট্রাফিক সদস্যদের জন্য সেখানে কোনো ছাউনিযুক্ত আশ্রয়, বিশ্রামাগার বা ন্যূনতম বসার ব্যবস্থা নেই। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যস্ততম এই মোড়ে দাঁড়িয়ে হাতের ইশারায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ট্রাফিক সদস্যদের জন্য এটি এক অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করছে।
ব্যবসায়ী ও ট্রাফিক সদস্যদের আক্ষেপ
পুরানথানা মোড়ের একাধিক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, কিশোরগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পুরানথানা মোড়। জুলাই মাসের আন্দোলনে ট্রাফিক পুলিশ বক্সটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আর সেটি পুনর্নির্মাণ কিংবা নতুন করে স্থাপনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে ট্রাফিক সদস্যরা যেমন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, তেমনি শহরের সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও ব্যাহত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাফিক বিভাগের এক সদস্য বলেন, এখন রোদ-বৃষ্টি সবকিছুর মধ্যেই দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একটি ট্রাফিক বক্স থাকলে তারা কিছুটা স্বস্তি পেতেন।
পুলিশ সুপারের আশ্বাস
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, শহরের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর, সুশৃঙ্খল এবং জনবান্ধব করতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাফিক পুলিশ বক্স পূর্বে ছিল অথবা বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে নতুন করে স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে দ্রুত ট্রাফিক পুলিশ বক্স পুনঃস্থাপন ও নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান যে, দায়িত্বপালনে নিয়োজিত ট্রাফিক সদস্যদের জন্য একটি উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
শহরবাসী আশা করেন যে, জনস্বার্থে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মানবিক কষ্ট এবং কর্মপরিবেশের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পুরানথানা মোড়ে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী ট্রাফিক পুলিশ বক্স পুনঃনির্মাণ করা হবে।
