কুষ্টিয়ার চরাঞ্চলের ভাগ্য পরিবর্তনে স্থায়ী সেতুর দাবি জোরালো
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার অবহেলিত চরাঞ্চলের বাসিন্দারা দেশের মূল অর্থনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত হতে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জোরালো করেছেন। নদীবেষ্টিত এই জনপদের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে যোগাযোগ সংকটের কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বাণিজ্যের মতো মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিমত, চরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে যদি একটি স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, তবে এই অঞ্চলের সামগ্রিক জীবনযাত্রায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে এই এলাকার মানুষকে দৈনন্দিন প্রয়োজনে নৌপথের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। চরাঞ্চলে প্রচুর ফসল উৎপাদিত হলেও, ভালো যাতায়াত ব্যবস্থার অভাবে সেগুলো বড় বাজারে পাঠানো সম্ভব হয় না। ফলস্বরূপ, কৃষকদের বাধ্য হয়ে স্থানীয় আড়তদারদের কাছে কম দামে তাদের পণ্য বিক্রি করতে হয়। একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে পরিবহন খরচ কমার পাশাপাশি চরাঞ্চলে নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সেতুর অভাবে চরাঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতও মারাত্মকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত নৌকায় নদী পারাপার হতে হয়, যা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে, রাতে বা জরুরি মুহূর্তে মুমূর্ষু ও প্রসূতি রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মনে করেন, এই সেতু কেবল দুটি ভূখণ্ডকে সংযুক্ত করবে না, বরং চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত ঘাটে ৩৫০ মিটার এবং চিলমারী ইউনিয়নের সুখারঘাটে ৯৬ মিটার দীর্ঘ দুটি সেতু নির্মাণের একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর জানিয়েছে, বাজেট বরাদ্দ পাওয়ার পরই নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
উল্লেখ্য, বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-১ আসনের প্রার্থীদের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল এই ভাগজোত ও সুখারঘাট সেতু নির্মাণ। তবে নির্বাচনের পর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। অবশ্য স্থানীয় সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি ইতিমধ্যেই জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন। সকলের প্রত্যাশা, দ্রুত এই দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দৌলতপুরের চরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
