বিতর্কিত সাবেক চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামানকে বগুড়ায় জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে বদলির সিদ্ধান্তে আদালত পাড়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই বদলির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সোমবার (১৫ জুন) বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সভাপতি শেখ মোঃ রেজাউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি আবেদন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
আবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে মনিরুজ্জামানের বদলির সিদ্ধান্ত বাতিল করে তার পরিবর্তে অন্য কোনো দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিচারককে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হোক।
জানা যায়, বিচারক মনিরুজ্জামান আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বগুড়া জেলায় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেসময় মোজাম্মেল হক চৌধুরী জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারা উভয়েই প্রকাশ্যে নিজেদের যথাক্রমে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা (মোজাম্মেল হক চৌধুরী) এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতা (মনিরুজ্জামান) হিসেবে পরিচয় দিতেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়ে তারা বদলি বাণিজ্য, ঘুষ ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন এবং বিচারিক কাজে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আইনজীবী এবং জেলা জজশীপের কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ মোজাম্মেল হক চৌধুরী ও চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামানকে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে অবসরে পাঠানো হয়। বিতর্কিত বিচারক মনিরুজ্জামানকে হঠাৎ করে বগুড়া জেলার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে বদলির সিদ্ধান্ত জানার পর বগুড়া বার সমিতির আইনজীবীরা ফুঁসে উঠেছেন। একই সাথে জেলা জজশীপের কর্মচারীদের মধ্যেও তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিচারক মনিরুজ্জামান বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে যোগদান করলে বিচারকার্য ব্যাহত হবে এবং বিচারপ্রার্থীরা ন্যায় ও নিরপেক্ষ বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন। তাদের দাবি, জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে মনিরুজ্জামানের বদলির আদেশ বাতিল করে একজন সৎ, দক্ষ ও বিচক্ষণ বিচারককে বগুড়া জেলার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক।
উল্লেখ্য, এর আগেও জেলা জজশীপের কর্মচারী-কর্মকর্তারা সাবেক ওই দুই বিচারকের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন ও কর্মবিরতি পালন করেছিলেন। তাদের আন্দোলনের ফলেই পরবর্তীতে দুই বিচারককে বগুড়া থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়। এরপর বিতর্কিত জেলা ও দায়রা জজ মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে স্বেচ্ছায় অবসরে পাঠানো হয়েছিল।
