বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে পর্তুগাল। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আসা ডিআর কঙ্গো বুধবার রাতে পর্তুগিজদের বিপক্ষে রীতিমতো চমক দেখিয়ে এই ড্র অর্জন করে।
তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পারফরম্যান্স। তিনি প্রত্যাশিত খেলা উপহার দিতে পারেননি, যা তাকে যেমন হতাশ করেছে, তেমনি সমর্থকদেরও আশাহত করেছে।
পর্তুগালের দ্রুত লিড
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখলে পর্তুগাল আধিপত্য বিস্তার করে। রোবের্তো মার্তিনেজের দল ডিআর কঙ্গোকে নিচে নামিয়ে রেখে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে এবং দ্রুতই তার ফল পায়। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে ডান দিক থেকে পেদ্রো নেতোর চমৎকার ক্রসে নেভেস হেড করে বল দূরের কোণে পাঠিয়ে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন। পর্তুগালের জার্সিতে এটি ছিল নেভেসের চতুর্থ গোল।
গোলের পরও বেশিরভাগ সময় বল পর্তুগালের পায়েই ছিল। প্রথমার্ধের একপর্যায়ে তাদের বল দখল ছিল ৮০ শতাংশ। তবে এত বল দখল নিয়েও তারা পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না।
ডিআর কঙ্গোর ঐতিহাসিক সমতা
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আসে ডিআর কঙ্গোর জন্য ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত। ছোট করে নেওয়া কর্নারের পর পর্তুগালের রক্ষণভাগে ভুল হয়। ব্রুনো ফার্নান্দেস সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেন এবং তমাস আরাউজো উইসাকে ফাঁকা রেখে দেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উইসা দারুণ এক হেডে বল ওপরের বাঁ কোণে পাঠিয়ে দেন। এটি ছিল ডিআর কঙ্গোর ৫২ বছরের মধ্যে প্রথম বিশ্বকাপ গোল। এই গোলেই বিরতিতে ম্যাচ ১-১ সমতায় যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের লড়াই ও রোনালদোর নিষ্প্রভতা
দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দলের মধ্যে সমান তালে লড়াই চলে। ৫৫ মিনিটে পর্তুগাল আবারও এগিয়ে যেতে পারতো। বক্সের মধ্যে ক্যানসেলো অসাধারণ দক্ষতায় এক বাইসাইকেল কিকে বলটি সরাসরি জালের ওপরের কোণে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু গোল উদযাপনের আগেই সহকারী রেফারির পতাকা অফসাইডের ইঙ্গিত দেয়, ফলে গোলটি বাতিল হয়।
এদিন সবার নজর ছিল রোনালদোর দিকে। তবে প্রথমার্ধে যেমন তিনি নিষ্প্রভ ছিলেন, দ্বিতীয়ার্ধেও প্রত্যাশার ছাপ রাখতে পারেননি। বেশ কয়েকবার বল পেলেও তিনি গোলমুখে কোনো শটই নিতে পারেননি, বরং একাধিক সুযোগ নষ্ট করেছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত পর্তুগালকে ১-১ গোলের ড্রয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।
রোনালদোর দীর্ঘতম গোলখরা
এই ম্যাচে গোল করতে না পারায় রোনালদোর বড় টুর্নামেন্টে গোলখরা আরও দীর্ঘ হয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করার পর থেকে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচে তিনি গোলের দেখা পাননি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটি তার সবচেয়ে দীর্ঘ গোলশূন্য অধ্যায়। এছাড়া ওপেন প্লে থেকে বড় টুর্নামেন্টে তার সর্বশেষ গোল এসেছিল ইউরো ২০২০-এ জার্মানির বিপক্ষে।
