নিত্যপণ্যে প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহার ও রেস্তোরাঁ খাতে অভিন্ন ভ্যাট দাবি

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর প্রস্তাবিত উৎসে কর ও সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। একই সাথে, রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবার জন্য অভিন্ন শুল্ক-কর নির্ধারণের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। খাতটিকে বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে এই দাবিগুলো জানানো হয়।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর প্রতিক্রিয়া জানাতে আজ শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের বিজয়নগরে সমিতির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান।

ইমরান হাসান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাতের সংকটের মধ্যেও ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করায় সমিতি বিএনপি সরকার ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানায়। তবে, বাজেটে রেস্তোরাঁ খাতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এলপিজি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে রেস্তোরাঁ খাতের পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়েছে।

ইমরান হাসান জানান, বর্তমানে রেস্তোরাঁ খাতে ৫ শতাংশ ও ক্যাটারিং সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। এই বৈষম্য দূর করতে সব ধরনের রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবার জন্য অভিন্ন ৫ শতাংশ ভ্যাট ও কর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, ভিন্ন হারে ভ্যাট আরোপ ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় বৈষম্য সৃষ্টি করে ও কর প্রশাসনকে জটিল করে তোলে।

সমিতির মহাসচিব বলেন, স্ট্রিট ফুডসহ সব রেস্তোরাঁকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনা উচিত। এতে অসম প্রতিযোগিতা কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।

সংগঠনটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে প্রস্তাবিত দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর ও ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের কারণে এসব কর সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।

সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ খাতে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, মাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট আদায় ও রিটার্ন দাখিল, দ্রুত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু, পৃথক শিল্পনীতি প্রণয়ন এবং সমিতির সদস্যপদ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা কার্যকরের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর আহ্বান

ইমরান হাসান বলেন, একটি রেস্তোরাঁ চালাতে বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তর থেকে ১০-১২টি অনুমোদন নিতে হয়, যা সময় ও ব্যয় বাড়ায়। তাই, সমন্বিত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার আওতায় ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করতে হবে। এতে লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজ হবে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে নজরদারি সম্ভব হবে।

পৃথক শিল্পনীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা

ইমরান হাসান আরও বলেন, রেস্তোরাঁ খাতের জন্য পৃথক শিল্পনীতি প্রণয়ন করা হলে লাইসেন্সিং, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্যনিরাপত্তা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উদ্যোক্তাদের সহায়তা একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আসবে। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পৃথক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা উদ্যোক্তাদের জন্য জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি করছে।

সংগঠনটি রেস্তোরাঁশিল্পের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ নিশ্চিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তারা করকাঠামো সহজ ও স্বচ্ছ করা, পরিচালন ব্যয় কমানো, কর প্রশাসনের হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দেয়।

বাজেটে রন্ধনশিল্পকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণের উদ্যোগকে সমিতি স্বাগত জানিয়েছে। পাশাপাশি, গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ভর্তুকিসহ প্রশিক্ষণ এবং রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিক-কর্মীদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর দাবিও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।