কেপ ভার্দের চমক: উরুগুয়েকে ২-২ গোলে রুখে দিল

বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রায়শই জন্ম নেয় অবিশ্বাস্য সব গল্প, আর সাম্প্রতিক সময়ে সেই গল্পের নতুন সংযোজন আফ্রিকান দেশ কেপ ভার্দে। নিজেদের অভিষেক আসরেই তারা ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে।

পাঁচ লাখের সামান্য বেশি জনসংখ্যার এই দেশটি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েই ইতিহাস গড়েছে। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে তারা তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। এবারই প্রথম তারা বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে অংশ নিচ্ছে। অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন, কেপ ভার্দের জন্য বিশ্বকাপে অংশগ্রহণই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন। কিন্তু তাদের পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে, এর চেয়েও বড় চমক তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল।

কেপ ভার্দের নীল ও সাদা জার্সিতে যে এমন বিস্ময় লুকিয়ে ছিল, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই তারা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোল করতে দেয়নি। সেই ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র করে বিশ্বকে চমকে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপ অভিষেকে নিজেদের প্রথম পয়েন্টও অর্জন করে কেপ ভার্দে। তখন হয়তো অনেকে এটিকে নিছকই একটি ‘ফ্লুক’ বা আকস্মিক ঘটনা বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে।

অন্তত মায়ামি স্টেডিয়ামে সম্প্রতি যা ঘটেছে, তা দেখে এমন দাবি করাই যায়। কেপ ভার্দে এবার দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকেও ২-২ গোলে আটকে দিয়ে আরও একবার নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।

এই ড্রটিও ছিল অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় ভরা। ম্যাচের ২১তম মিনিটেই সরাসরি ফ্রি কিক থেকে গোল করে কেপ ভার্দেই প্রথমে এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে উরুগুয়ে সমতায় ফেরে এবং সেই অর্ধের যোগ করা সময়ে এগিয়েও যায়। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৯তম স্থানে থাকা দক্ষিণ আমেরিকান পরাশক্তি উরুগুয়ের চেয়ে ৪৯ ধাপ পিছিয়ে থাকা কেপ ভার্দে এরপরও দমে যায়নি। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ম্যাচের ৬১তম মিনিটে তারা আবারও সমতায় ফেরে। এরপর উরুগুয়ে প্রাণান্ত চেষ্টা করেও আর গোলের দেখা পায়নি।

এতে বিশ্বকাপ অভিষেকে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেও আরও ১ পয়েন্ট তুলে নেওয়ার স্পর্ধা দেখাল কেপ ভার্দে। একবার ভাবুন, কাদের বিপক্ষে এই পয়েন্ট অর্জন? স্পেন এবং উরুগুয়ে—দুটি সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। এমনটা ভাবতেই হয়তো অনেকের অস্বস্তি হতে পারে।

কিন্তু এই অস্বস্তিটুকুই বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য গল্পের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক। এখন এটি প্রমাণিত যে, স্পেনের বিপক্ষে তাদের পয়েন্ট ভাগাভাগি মোটেও কোনো ‘ফ্লুক’ ছিল না, যেমনটা এই ম্যাচের ড্রও নয়। তবুও বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনেকে এই দুটি ম্যাচকে অন্যতম সেরা জোড়া-অঘটন হিসেবে স্মরণ করবেন। ফুটবল মাঠ জনসংখ্যা কিংবা ফুটবলীয় শক্তি-ঐতিহ্যকে চেনে না; মাঠে ভালো খেলেই ফল বের করে আনতে হয়। কেপ ভার্দে হয়তো জিততে পারেনি, কিন্তু পরপর দুই ম্যাচে সাবেক দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের চোখে চোখ রেখে পয়েন্ট কেড়ে নেওয়া তো জয়েরই সমান!