হাইড্রেশন বিরতিতে বাণিজ্য নয়, দাবি ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর

হাইড্রেশন বিরতি নিয়ে মুখ খুললেন ফিফা সভাপতি

চলমান বিশ্বকাপে হাইড্রেশন বিরতি বা পানি পানের বিরতি নিয়ে ফুটবল বিশ্বে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ভক্তদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কোচ এবং বর্তমান-সাবেক ফুটবলাররাও এই নতুন নিয়ম নিয়ে দ্বিমত পোষণ করছেন। অনেকের মতে, এই বিরতি মূলত ফিফার নতুন কোনো বাণিজ্যিক কৌশল। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত বর্তমান বিশ্বকাপের প্রচণ্ড গরমের কথা বিবেচনা করে প্রতিটি ম্যাচের দুই অর্ধে তিন মিনিটের হাইড্রেশন বিরতি চালু করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সম্প্রচারকারীরা এই বিরতির সময় বিজ্ঞাপন প্রচার করায় আর্থিক মুনাফার বিষয়টি সামনে চলে আসে। তবে ইনফান্তিনো এই ধারণা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই বিরতি থেকে ফিফার কোনো বাড়তি আয় হচ্ছে না। তার মতে, সম্পূর্ণ বিষয়টি খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থার কথা চিন্তা করেই করা হয়েছে।

আর্থিক বিষয় নয়, এটি পুরোপুরি ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট

সমালোচনার জবাবে ফিফা সভাপতি বলেন, ‘ফিফার জন্য এতে কোনো অতিরিক্ত রাজস্ব আসছে না। কারণ বাণিজ্যিক চুক্তিগুলো অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছে। এটি আমাদের কাছে কোনো আর্থিক বিষয় নয়, এটি পুরোপুরি খেলাধুলাসংশ্লিষ্ট একটি বিষয়।’

হাইড্রেশন বিরতির সময় কোচরা তাদের দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা করার সুযোগ পান। ইনফান্তিনোর মতে, এই সুযোগ প্রতিটি দলের জন্য সমান থাকাটা জরুরি। যদিও এই বিরতি নিয়ে খেলোয়াড় ও কোচদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, এমনকি কিছু স্টেডিয়ামে দর্শকদের কাছ থেকে বিরতির সময় দুয়োধ্বনিও শোনা গেছে।

সবার জন্য সমান পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য

এতসব বিতর্কের পরও ইনফান্তিনো এই নিয়মের পক্ষে জোরালো যুক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মূল কারণ অবশ্যই গরম আবহাওয়া। তবে আমাদের এটাও বুঝতে হবে যে, বিশ্বকাপের মতো একটি প্রতিযোগিতা ৩৯ দিন ধরে চলে, যেখানে কোনো দলকে এই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ আটটি ম্যাচ খেলতে হতে পারে। তাই কিছু সময় বিশ্রামের সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত জরুরি।’

ফিফা সভাপতি আরও যোগ করেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিটি দল যেন প্রতিটি ম্যাচে একই ধরনের পরিবেশে খেলে। এটা মেনে নেওয়া কঠিন যে, শুধু বেশি গরম থাকায় কোনো কোচ ম্যাচে পরিবর্তন আনার সুযোগ পাবেন, অথচ অন্য ম্যাচে তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকায় আরেক কোচ সেই সুযোগ পাবেন না। আমরা সবার জন্য সমান পরিবেশ নিশ্চিত করতেই প্রতিটি ম্যাচে এই বিরতি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’