নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ৮২২ কোটি টাকার তেল ও ডাল কিনছে সরকার

সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ

নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে বিতরণের জন্য চার কোটি লিটার ভোজ্যতেল এবং ২২ হাজার ৫০০ টন মসুর ডাল কেনার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি বিক্রয়কারী সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর জন্য এই পণ্যগুলো কেনা হচ্ছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে মোট ৮২২ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়েছে। বৈঠকে এই দুই পণ্য ছাড়াও সার আমদানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, মৎস্যসম্পদ অনুসন্ধান ও যুব কর্মসংস্থান কর্মসূচি সংক্রান্ত মোট ২৩টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

মসুর ডাল সংগ্রহের বিস্তারিত

মসুর ডাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন উৎস ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে চট্টগ্রামের পায়েল অটোমেটিক ফুড প্রসেসিং মিলস ১০ হাজার টন ডাল সরবরাহের কাজ পেয়েছে। প্রতি কেজি ৮১ টাকা ৪৭ পয়সা দরে এই ডাল কিনতে ব্যয় হবে ৮১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এমসিজি ইন্টারন্যাশনাল পিটিওয়াই লিমিটেড ১২ হাজার ৫০০ টন ডাল সরবরাহ করবে। টনপ্রতি ৫৫৯ মার্কিন ডলার দরে এই ডাল কিনতে ৮৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয় হবে, যেখানে পরিবহন খরচসহ টিসিবির গুদামে পৌঁছাতে প্রতি কেজির দাম পড়বে ৭৪ টাকা ৮৬ পয়সা।

ভোজ্যতেল সংগ্রহের বিস্তারিত

তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও টিসিবির জন্য দুই কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন এবং দুই কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ঢাকার শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে ৩৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকায় দুই কোটি লিটার পাম অলিন কেনা হবে। এতে পরিবহন খরচসহ প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৮৩ টাকা ৯৫ পয়সা। এছাড়া আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এমসিজি ইন্টারন্যাশনাল পিটিওয়াই লিমিটেড থেকে ২৭৭ কোটি ১৭ লাখ টাকায় দুই কোটি লিটার সয়াবিন তেল সংগ্রহ করা হবে, যার প্রতি লিটারের দাম পরিবহনসহ দাঁড়াবে ১৬৪ টাকা ৭৭ পয়সা।

অন্যান্য উন্নয়ন ও ক্রয় প্রকল্প

বৈঠকে পণ্য ক্রয়ের পাশাপাশি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে:

  • এলএনজি আমদানি: সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো জাহাজ এলএনজি আমদানিতে প্রায় ১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
  • সার সরবরাহ: কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে ইউরিয়া ও টিএসপি সার কেনা হবে। এর মধ্যে সরাসরি কাফকো থেকে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া এবং ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে ৩০ হাজার টন টিএসপি আমদানিসহ মোট ৪৬৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকার সার কেনা হবে।
  • অবকাঠামো উন্নয়ন: বান্দরবানের রামু–নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য ১৯৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, যা বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হবে।
  • মৎস্যসম্পদ ও বন্দর ব্যবস্থাপনা: গভীর সমুদ্রে টুনা মাছ আহরণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে ৩৫ কোটি ৬০ লাখ টাকায় একটি যৌথ উদ্যোগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেড।