মুদি দোকান এবং গৃহস্থালী পণ্য বিক্রয়সহ দেশের মোট ১৬টি ব্যবসায়িক খাতকে নতুন করে করের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়াতে সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে করের আওতার বাইরে থাকা অথবা সীমিত পর্যায়ে কর প্রদানকারী এমন ১৬টি বিশেষ ব্যবসায়িক খাতকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান যেমন মুদি দোকান এবং বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালী পণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো এই খাতগুলোকে যথাযথ নিবন্ধনের আওতায় এনে ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কর প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করে তোলা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, করের আওতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সংস্থাটি নিয়মিতভাবে জরিপ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই ১৬টি খাতকে কর কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হলে সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ে একটি ইতিবাচক ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা। আগামীতে পর্যায়ক্রমে এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং আইনি কাঠামো তৈরির কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
এনবিআর সূত্রে আরও জানা যায়, এই নতুন খাতগুলোকে করের আওতায় আনার মাধ্যমে দেশের করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই উদ্যোগ বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। পর্যায়ক্রমে এসব খাতের ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর প্রদানের বিষয়টি সহজ করা হবে, যাতে করের বোঝা সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে।
