দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরেও শেষ পর্যন্ত গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে পারল না স্কটল্যান্ড। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘এল’-এর ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার ২-১ গোলের জয়ের পরপরই স্কটল্যান্ডের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। এই ফলাফলের ফলে টুর্নামেন্টের ১২টি গ্রুপের অন্যতম সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেওয়ার যে গাণিতিক সম্ভাবনা ছিল, তা-ও স্কটিশদের জন্য পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে।
দলের এমন হতাশাজনক বিদায়ের ঘটনার পরপরই প্রধান কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন স্টিভ ক্লার্ক। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্কটিশ জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে তার সাত বছরের গৌরবময় সম্পর্কের একটি অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মোট নয়টি বিশ্বকাপ এবং চারটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিলেও স্কটল্যান্ড কখনোই প্রথম পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি। এবারের আসরে গ্রুপ ‘সি’-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছিল তারা। জন ম্যাকগিনের সেই একমাত্র গোলটিই শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে স্কটিশদের একমাত্র প্রাপ্তি হয়ে রইল। কারণ পরের ম্যাচেই মরক্কোর কাছে ১-০ গোলে হেরে তারা চাপে পড়ে যায়। এরপর গত বুধবার মিয়ামিতে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়ে প্রথমার্ধের চরম রক্ষণাত্মক ভুলের মাশুল দিতে হয় তাদের। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাথিউস কুনহার গোলে ৩-০ ব্যবধানে ম্যাচটি হেরে বসে স্কটল্যান্ড।
ব্রাজিলের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর ৩ পয়েন্ট এবং মাইনাস ৩ গোল ব্যবধান নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের অপেক্ষায় ছিল স্কটল্যান্ড। জার্মানির বিপক্ষে ইকুয়েডরের নাটকীয় জয়সহ অন্যান্য ম্যাচের সমীকরণ তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ৫.২৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল। অবশেষে ক্রোয়েশিয়ার জয়ের ফলে সব সমীকরণ শেষ হওয়ায় হাজার হাজার সমর্থক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেওয়া স্কটল্যান্ড দলকে এখন দেশে ফিরতে হচ্ছে।
ডেনমার্ককে হারিয়ে মূল পর্বের টিকিট কেটে যে রূপকথার জন্ম দিয়েছিল ক্লার্কের শিষ্যরা, রক্ষণভাগের দুর্বলতা আর আক্রমণভাগের ব্যর্থতার কারণে তা শেষ পর্যন্ত কেবল একরাশ হতাশাতেই রূপ নিল।
