বিশ্বকাপের নকআউটে মেক্সিকো ও ইকুয়েডর লড়াই

গ্রুপ পর্বে টানা তিন জয়, কোনো গোল হজম না করা এবং ঘরের মাঠের সমর্থকদের বিপুল সমর্থনে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নামছে স্বাগতিক মেক্সিকো। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর, যারা গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানিকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে।

মেক্সিকো গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট অর্জন করে গ্রুপ সেরা হয়েছে। তিন ম্যাচে তারা ৬টি গোল করেছে এবং একটি গোলও হজম করেনি। নিজেদের মাঠে টানা জয়ের এই ধারা দলটির আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে, ইকুয়েডরের শুরুটা ছিল বেশ হতাশাজনক। প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে হার এবং কুরাসাওয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে তারা কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল। তবে শেষ ম্যাচে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেরা তৃতীয় হওয়া দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউটে উঠে এসেছে দলটি।

মেক্সিকো শিবিরে বড় কোনো চোটের সমস্যা নেই। বিশ্রামের পর মূল একাদশে ফিরতে পারেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেস। রক্ষণভাগ অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যারা গ্রুপ পর্বে প্রতিপক্ষকে কোনো গোল করার সুযোগ দেয়নি।

ইকুয়েডরও তাদের পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে। জার্মানির বিপক্ষে জয়সূচক গোল করা গনসালো প্লাতা এবং অভিজ্ঞ অধিনায়ক এনের ভ্যালেন্সার দিকে বিশেষ নজর থাকবে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে ভ্যালেন্সার আর মাত্র একটি গোলের প্রয়োজন।

দুই দলের অতীত পরিসংখ্যানে মেক্সিকো বেশ এগিয়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৮ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে মেক্সিকো জয়ী হয়েছে ১৭টিতে, বিপরীতে ইকুয়েডর জিতেছে মাত্র ৪ বার এবং ৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপে এর আগে ২০০২ সালে মুখোমুখি হয়ে মেক্সিকো ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল।

কাগজে-কলমে এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে স্বাগতিক মেক্সিকো এগিয়ে থাকলেও, জার্মানিকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে টগবগে ইকুয়েডর যে আরেকটি চমক দেখাতে পারে, সেই সম্ভাবনা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।