ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দুই যুবলীগ কর্মীকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ এ আদেশ প্রদান করেন। রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন সিংগাইর উপজেলা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম এবং সাভার পৌর এলাকার আনন্দপুর মহল্লার বাসিন্দা ও স্থানীয় যুবলীগ কর্মী মো. সজিব। নুরুল ইসলাম মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানা এলাকার পূর্ব ভাকুম গ্রামের বাসিন্দা।
এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাখাওয়াত ইমতিয়াজ আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সোমবার সাভার মডেল থানার তারাপুর ঈদগাহ মাঠে এনসিপি সভার আয়োজন করেছিল। সন্ধ্যার পর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সারজিস আলম মঞ্চে আসার ৫-১০ মিনিট আগে আকস্মিকভাবে সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জেনারেটরের মাধ্যমে স্বল্প আলোর ব্যবস্থা করা হলেও রাত ৯টার দিকে হঠাৎই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
বিস্ফোরণের ফলে সমাবেশস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উপস্থিত শ্রোতারা দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন। ঘটনায় অনেকেই গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার দাবি, অজ্ঞাতনামা আসামিরা এনসিপি নেতৃবৃন্দ ও শ্রোতাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এছাড়া এর পেছনে কোনো নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সমাবেশ শুরুর আগে ও চলাকালে আসামিদের সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বলে রিমান্ড আবেদনে জানানো হয়। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী এম এম আশ্রাফ আলী অয়ন রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ৬ জুলাই এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব সালামত উল্লাহ রনি মামলাটি দায়ের করেন।
কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমাবেশের মঞ্চে উঠার ৫/১০ মিনিট আগে সমাবেশ স্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

