নোয়াখালীতে মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় মাদক সেবন ও বিক্রির প্রতিবাদ করায় মো. ফারুক ওরফে শহীদ (৫০) নামের এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজারসংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত ফারুক সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক এবং তেঁতুলতলা বাজারের একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ওই গ্রামের চৌধুরী মিস্ত্রির ছেলে।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা মো. আরশাদ আকাশ (২৬) ও মো. সাজ্জাদ হোসেন আকাশ (২০) নামের দুই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আটক আরশাদ একই গ্রামের আল আমিনের ছেলে এবং সাজ্জাদ দুলাল মিয়ার ছেলে।

নিহতের বড় ছেলে মো. ইমরান হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাতে তেঁতুলতলা বাজারের একটি দোকানে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে তার বাবার সঙ্গে আরশাদ আকাশের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ফারুক তাকে দোকান থেকে বের করে দেন। এই বিরোধের জের ধরেই বুধবার রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার বাবার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

কবিরহাট পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া জানান, প্রাথমিক তদন্তে মাদক সেবন নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উঠে এসেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত আছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত