বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পরপরই আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তাদের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে এক দৃঢ় বার্তা দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আমরা এখনই থামছি না।’ আগামী ১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা স্পেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এক শ্বাসরুদ্ধকর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে ফাইনালে পা রেখেছেন ‘লা আলবিসেলেস্তে’রা। ম্যাচের প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্টিনেজের জয়সূচক গোলটি তাদের ফাইনালে পৌঁছে দেয়। ম্যাচ জয়ের পর ফুটবলারদের অনুশীলনের ছবি শেয়ার করে এএফএ ক্যাপশনে লেখে, ‘আবার কাজে ফেরা! আমরা থামব না। লড়াই চলছে বন্ধুরা। আর মাত্র একটা ছোট পদক্ষেপ বাকি।’
সেমিফাইনালটি ছিল মূলত এক স্নায়ুযুদ্ধের লড়াই। ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যস্ত থাকায় পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। তবে ৫৫ মিনিটে ডেডলক ভাঙতে সমর্থ হয় থ্রি-লায়ন্সরা। মর্গান রজার্সের বাড়ানো ক্রস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেন অ্যান্থনি গর্ডন। গোল করার পর ইংল্যান্ড রক্ষণভাগকে জমাট করে ডিফেন্সিভ খেলতে শুরু করলে আক্রমণের ধার বাড়ায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের কিছু দুর্দান্ত সেভ এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসার পর অবশেষে ৮৫ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। অধিনায়ক লিওনেল মেসির বাড়ানো পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে সমতা আনেন এনজো ফার্নান্দেজ।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই ইনজুরি টাইমে নিজের জাদুকরী স্পর্শ দেখান মেসি। তার নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে জয়সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্টিনেজ। পুরো ম্যাচে নিজে গোল না পেলেও দুটি গোলেই অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তনের রূপকার ছিলেন অধিনায়ক মেসিই। এই হারের মাধ্যমে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার ইংলিশ স্বপ্ন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। হ্যারি কেইনরা এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবেন ফ্রান্সের। অন্যদিকে, ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন চলতি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচে ছয়বারই ‘ক্লিন শিট’ রেখেছে। ইতিহাস গড়ার ঠিক এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে থাকা স্পেন ও নিজেদের মুকুট ধরে রাখার মিশনে নামা আর্জেন্টিনার রোববারের ফাইনালটি তাই হতে যাচ্ছে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা এক দ্বৈরথ।

