সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক দীর্ঘ ভাষণে আমেরিকার নির্বাচন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট-ইপসসের নতুন এক জরিপে তার জনপ্রিয়তা ৩৭ শতাংশে নেমে আসার প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই ভাষণে তিনি অভিযোগ করেন যে, ২০২০ সালের নির্বাচনে চীন হস্তক্ষেপ করেছিল। যদিও ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল জানিয়েছিল যে, ২০২০ সালের নির্বাচনে চীন হস্তক্ষেপ করেনি বলে তাদের কাছে ‘উচ্চ পর্যায়ের নিশ্চয়তা’ রয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি শত শত গোয়েন্দা ফাইল অবমুক্ত করেছেন যা প্রমাণ করে যে বেইজিং জো বাইডেনের পক্ষে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল। তিনি অভিযোগ করেন, চীন ২২০ মিলিয়ন ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করেছে। তবে এই অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি। এর আগে ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর মার্কিন নির্বাচন অবকাঠামোর দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে কিছু সংস্কার করা হয়েছিল, যখন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাশিয়ার হস্তক্ষেপের প্রমাণ পেয়েছিল।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীন কখনোই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি। ভাষণের এক পর্যায়ে ট্রাম্প দাবি করেন যে, রাশিয়ার পাশাপাশি চীন ও ইরানের মতো বিদেশি প্রতিপক্ষের কাছে মার্কিন ভোটিং মেশিনগুলো চরমভাবে অরক্ষিত। এ ছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ২ লাখ ৭৮ হাজার অ-নাগরিকের ভোটার তালিকায় নাম পাওয়ার কথা জানিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন, যদিও এর ফলে নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়েছে কি না তা স্পষ্ট করেননি।
ট্রাম্প পুনরায় ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাসের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বক্তব্য আসন্ন মিডটার্ম নির্বাচন এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরির একটি প্রচেষ্টা। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে কমলা হ্যারিস ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্প ভোটারদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

