প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৬ জুলাই জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ২০২০ সালের নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপ এবং মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি তার দাবির সপক্ষে বিভিন্ন নথি অবমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট এই নথিগুলোর ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।
সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য মার্ক ওয়ার্নারসহ অনেক বিশেষজ্ঞই ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। যদিও অবমুক্ত করা নথিগুলোতে কিছু সাইবার ঝুঁকি ও দুর্বলতার কথা উল্লেখ রয়েছে, তবে মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থা ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী কতটা ঝুঁকিপূর্ণ—অথবা চীন কীভাবে ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের জয়ের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে—তা নিয়ে কোনো জোরালো প্রমাণ নেই।
ট্রাম্পের দাবি ছিল, চীন ভোটারদের তথ্য চুরি এবং মার্কিন ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের প্রভাবিত করার মাধ্যমে নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি এফবিআইয়ের গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে বাইডেনের পক্ষে ভুয়া ব্যালট তৈরির চেষ্টার কথাও বলেন। এর জবাবে মার্ক ওয়ার্নার জানিয়েছেন, ১৮টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সবসময়ই তথ্যের গুরুত্ব নিয়ে মতপার্থক্য থাকে। তবে ২০২১ সালের মার্চ মাসের প্রধান গোয়েন্দা মূল্যায়নে স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে, কোনো বিদেশি শক্তি ভোটার নিবন্ধন, ভোটদান বা ফলাফল গণনায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেনি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিউ চ্যাং ১৬ জুলাই এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মার্কিন নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। চীন কখনো মার্কিন নির্বাচন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং করবে না। হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা জন সলোমনও স্বীকার করেছেন যে, গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের কাছে ২০২০, ২০২২ বা ২০২৪ সালের নির্বাচনে কোনো বিদেশি শক্তির ভোট পরিবর্তনের কোনো প্রমাণ নেই।
ট্রাম্পের দাবি করা ২২০ মিলিয়ন ভোটার ফাইল চুরির বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মধ্যে অনেক তথ্যই নির্বাচনী প্রচারণার কাজে বৈধভাবে কেনার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ট্রাম্পের করা গোয়েন্দা তথ্যে কারচুপির অভিযোগের বিষয়ে সু গর্ডন, যিনি ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ট্রাম্পের অধীনে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান উপ-পরিচালক ছিলেন, তিনি ১৬ জুলাই সিএনএন-কে বলেন যে, গোয়েন্দারা ট্রাম্পকে বিদেশি হস্তক্ষেপের ব্যাপারে বারবার সতর্ক করেছিলেন।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রায় ২ লক্ষ ৭৮ হাজার অ-নাগরিককে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত পেয়েছে, তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ১৭ জুলাই প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় গঠিত 'ফরেন ম্যালিগন ইনফ্লুয়েন্স সেন্টার' (FMIC) বাতিল করে দেন।
এছাড়া ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার মাধ্যমে ভোট জালিয়াতির যে অভিযোগ করেছেন, সলোমন জানিয়েছেন সেগুলোর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। একইসঙ্গে মিশিগানে ভোটার নিবন্ধনে অনিয়মের যে অভিযোগ ট্রাম্প তুলেছেন, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে নির্বাচনের আগেই সেসব ভুয়া আবেদন চিহ্নিত করে বাতিল করা হয়েছিল। সর্বশেষ, ট্রাম্পের ভাষণে কারচুপির তথ্য না দেখানোয় এবিসি ও এনবিসি নিউজের লাইসেন্স বাতিলের যে হুমকি তিনি দিয়েছেন, তার জবাবে দেখা গেছে ওই চ্যানেলগুলো বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার ভাষণ সম্প্রচার করেছে।

