প্রথম এশিয়া প্যাসিফিক এআই অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের তিন স্বর্ণপদক জয়

এশিয়া প্যাসিফিক অলিম্পিয়াড ইন এআই-এর (এপিওএআই) প্রথম আসরেই বাজিমাত করেছে বাংলাদেশ। ১৩ জুন অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ তিনটি স্বর্ণপদক জিতেছে, যা অংশগ্রহণকারী ১৮টি দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২৬ জুন রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণার সময় বাংলাদেশ দলের আট সদস্যের মধ্যে যে উৎকণ্ঠা ছিল, ২৭ জুন সকাল সাড়ে সাতটায় তা আনন্দে রূপ নেয়। এআই অলিম্পিয়াডের তৃতীয় বছরে এটি বাংলাদেশের প্রথম স্বর্ণপদক জয়।

এআই অলিম্পিয়াড বিশ্বজুড়ে একটি নতুন আয়োজন, যা ২০২৪ সালে শুরু হয়। গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন—বছরে দুটি এডিশন হয় এই অলিম্পিয়াডের। বুলগেরিয়া, সৌদি আরব ও চীনের আগের তিনটি আসরে বাংলাদেশ তিনটি ব্রোঞ্জ ও দুটি সিলভার মেডেল পেয়েছিল। তবে স্লোভেনিয়ার শীতকালীন আসরে ভিসা জটিলতায় অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশ। এবার এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য আয়োজিত এপিওএআইতে চীন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও জাপানসহ ১৮টি দেশ অংশ নেয়।

বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াড (বিডিএআইও) আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দলের জন্য শিক্ষার্থী বাছাই করা হয়। এ বছর প্রথমবারের মতো ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী ও খুলনাসহ ছয়টি ভেন্যুতে আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। হাজারখানেক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে কুইজ ও কোডিং রাউন্ড শেষে ১৬ মে ঢাকায় ফাইনাল রাউন্ড হয়। সেখান থেকে সেরা ৩০ জনকে নিয়ে ২০ থেকে ২৩ মে ন্যাশনাল ক্যাম্প ও ভাইভার মাধ্যমে আটজনের চূড়ান্ত দল গঠন করা হয়।

বাংলাদেশ দলে সুযোগ পান হোমনা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের লাবিব শাহরিয়ার, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের মো. সাইদুজ্জামান আরাফ, নটর ডেম কলেজের ত্রিদিব রায় আর্য, দারুস সালাম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাওফিল রহমান, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নাঈরা নাওয়ার আহমেদ, মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অনন্য যারিফ আকন্দ, নটর ডেম কলেজের মোবতাসিম চৌধুরী প্রিয়ম এবং ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের মুরতাযা আবদুল্লাহ। ৫ থেকে ৭ জুন তিন দিনের একটি বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আগের ইন্টারন্যাশনাল এআই অলিম্পিয়াডে পদক পাওয়া আরেফিন, ইনান, রাহিক ও রাফিদ এই একাডেমিক টিমের অংশ হয়ে গাইডলাইন তৈরিতে সহায়তা করেন।

১৩ জুন দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া ছয় ঘণ্টার কনটেস্টটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের ৪০৭ নম্বর রুমে অনুষ্ঠিত হয়। মেশিন লার্নিংয়ের চারটি প্রবলেম ছিল কনটেস্টের মূল চ্যালেঞ্জ, যা পাইথন লাইব্রেরি ব্যবহার করে সমাধান করতে হয়েছে। কনটেস্টের প্রবলেমগুলোর মধ্যে ছিল নক্ষত্র শনাক্তকরণ, অডিও ক্ল্যাসিফিকেশন, ২০০টি অণুর গাঠনিক কাঠামো থেকে এনার্জি প্রেডিকশন এবং ইনফ্রারেড ক্যামেরায় তোলা চিতাবাঘের ছবি শনাক্তকরণ। কনটেস্ট চলাকালে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর আরাফের অবস্থান ১১০-এর বাইরে থাকলেও শেষ মুহূর্তে সে সেরা ২০-এর মধ্যে উঠে আসে।

ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, লাবিব শাহরিয়ার, মো. সাইদুজ্জামান আরাফ এবং ত্রিদিব রায় আর্য যথাক্রমে চতুর্থ, পঞ্চম ও নবম স্থানে থেকে তিনটি স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া নাওফিল, নাঈরা, অনন্য ও প্রিয়ম সম্মানজনক স্বীকৃতি লাভ করেন। কনটেস্ট চলাকালে চীন থেকে আয়োজক কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি ভিডিও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করেছে। কনটেস্টের প্রবলেমগুলো এখন বোরিয়াম প্ল্যাটফর্মে (https://www.bohrium.com/en/competitions/91841752314?tab=introduce) ৩১ জুলাই পর্যন্ত মিরর কনটেস্ট হিসেবে উন্মুক্ত রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত