ভাটারা থানায় চুরির তদন্তে আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি মোটরসাইকেল চুরির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে একটি আন্তঃজেলা চোর চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। চক্রটির আটজন সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ২০টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভাটারা থানা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৪ জুন ভাটারা থানায় একটি মোটরসাইকেল চুরির মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই দিনই সোহেল (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে ভাটারা থানার খিলবাড়ীটেক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৮ জুন রিপন (৪৫) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রিপনের বিরুদ্ধে চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৩৩টি মামলা রয়েছে। আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। এই তথ্যের সূত্র ধরে ১ জুলাই কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থেকে নয়টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয় এবং চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ হাজারীবাগ এলাকা থেকে নুরুজ্জামান জামাল নামের চক্রের আরেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ সদর, ফুলপুর এবং নেত্রকোনা সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে নেত্রকোনা থেকে চক্রের আরও তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্যমতে, নুরুজ্জামান জামাল ও রিপন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে সেগুলো কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা এলাকায় বিক্রি করতেন। গ্রেপ্তার নুরুজ্জামান জামালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ২০টি মোটরসাইকেলের মধ্যে ছয়টি পালসার, তিনটি ডিসকভার ১২৫ সিসি, দুটি হোন্ডা শাইন, দুটি টিভিএস মেট্রো প্লাস এবং একটি করে হিরো গ্ল্যামার, বাজাজ বক্সার, হোন্ডা লিভো ১১০ সিসি, হোন্ডা এক্স-ব্লেড, টিভিএস স্ট্রাইকার, হিরো হোন্ডা ও ইয়ামাহা এফজেড-এস ভার্সন-৩ মডেলের মোটরসাইকেল রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত