জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল।
সভায় মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের নৃশংসতা দেখে মানুষ গুমরে মরেছে, মা-বোনেরা ঘরে বসে কেঁদেছে ও দোয়া করেছে। কিন্তু ৫ আগস্টের বীভৎসতার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই রাস্তায় নেমেছে। তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা এই শক্তিশালী প্রতিরোধকে গণঅভ্যুত্থানের মূল তাৎপর্য হিসেবে উল্লেখ করেন। মঞ্জু আরও বলেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নিয়েছিল, যার বড় একটি অংশ ছিল আওয়ামী লীগে। ফ্যাসিবাদ পালিয়ে গেলেও তাদের কিছু দালাল এখনো দেশে থেকে ফ্যাসিবাদের প্রাসঙ্গিকতা ফেরানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আন্দোলনে আলেম সমাজের ভূমিকার প্রশংসা করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, সাধারণত সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকা আলেম সমাজ জাতির সংকটময় মুহূর্তে বারবার নেতৃত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৪৭, ভাষা আন্দোলন ও স্বৈরাচারবিরোধী প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে তাদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরাও আবাবিল পাখির মতো ঝাঁকে ঝাঁকে রাজপথে নেমেছিল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং আলেম-ওলামাদের জাতির শ্রেষ্ঠ বীর হিসেবে অভিহিত করে তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে যারা শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তাদের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি।
সভায় ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ দাবি করেন, ৫ মে শাপলা চত্বর থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীজ রোপিত হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকার জঙ্গিবাদের অভিযোগ ব্যবহার করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করেছিল। এছাড়া ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল আল মাসুদ খান জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কোনো প্রত্যক্ষ স্বার্থ না থাকা সত্ত্বেও তারা সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।
আলোচনা সভায় দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, গণশিক্ষা ও পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার ফারুক, মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, মহানগর দক্ষিণ যুব পার্টির আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান এবং রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার (২২ জুলাই) এবি পার্টির জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকীতে ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ৭১-এ পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করে এবং পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। কিন্তু তাদের দালাল ও প্রেতাত্মা রাজাকার আলবদরেরা আবার সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নেয়। তালিকা অনুযায়ী তাদের বড় অংশ ছিল আওয়ামী লীগের। এবারও ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের কিছু দালাল ও প্রেতাত্মা এ দেশে রয়ে গেছে। তারা এখন ইনি

