ব্যস্ত কর্মজীবন, দীর্ঘ যানজট, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা ওজন কমানোর মতো নানা কারণে অনেকেই রাতের খাবার এড়িয়ে যান। কেউ কেউ আবার ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের অংশ হিসেবেও নির্দিষ্ট সময়ের পর আর খাবার গ্রহণ করেন না। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, মাঝে মধ্যে রাতের খাবার বাদ দিলে বড় ধরনের সমস্যা না হলেও, এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হলে শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঘুমের সময় শরীর দীর্ঘক্ষণ খাবার ছাড়া থাকে। তাই ঘুমানোর আগে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি, পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস সামাজিক ও মানসিক সুস্থতার জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত রাতের খাবার বাদ দেন, তাদের শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবঘড়ির স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বিপাকক্রিয়াতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিভিন্ন গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে, দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত খাবার বাদ দেওয়ার সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকি এবং অকাল মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, রাতের খাবার না খেলে রক্তে শর্করার মাত্রায় ওঠানামা হতে পারে, যা দুর্বলতা, শক্তি কমে যাওয়া কিংবা হাত কাঁপার মতো উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
অন্যদিকে, গভীর রাতে খাবার খাওয়ার অভ্যাসও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, রাত করে খেলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী লেপটিন হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে, যা অতিরিক্ত খাওয়া এবং স্থূলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া, নিয়মিত খাবার বাদ দেওয়ার সঙ্গে বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং অনিদ্রার মতো মানসিক সমস্যার সম্পর্কও পাওয়া গেছে, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কোনো কারণে এক-দুদিন রাতের খাবার বাদ পড়লে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এটি যেন দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত না হয়। ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে রাতের খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করাই সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর ও কার্যকর পন্থা।

