রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন। বৃহস্পতিবার তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে দুটি সূত্রের বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও বিষয়টি জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে ফোনকল ও বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রের কাছেও মন্তব্যের অনুরোধ করা হয়েছিল, তবে সেখান থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া মেলেনি।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের এই সম্ভাবনা নিয়ে যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন চলছে, তখন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার থাইল্যান্ডের ব্যক্তিগত সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন। সংসদ সচিবালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার রাতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, স্পিকারের দেশে ফেরার সময় এগিয়ে আনা হয়েছে এবং তিনি শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছাবেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, “আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।” কেন পদত্যাগ করতে চান জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, “আমার ভালো লাগে না।” এছাড়া নতুন সরকার অনুরোধ করলে তিনি পদত্যাগ করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছিলেন। এর সাত মাস পর প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি ফেইসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে তার পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও তার ঘনিষ্ঠ একজন জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে স্পিকার দেশে না থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। আবার পদ শূন্য হলে ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানে স্পিকারের সশরীরে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, পদ শূন্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পিকারকে দায়িত্ব নিতে হয়। সেই কারণেই সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাকে দ্রুত দেশে ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

