রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার প্রাক্কালে এক হাজতির কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। আদালত চত্বরে ওই হাজতির এক স্বজনের দেওয়া পাউরুটির ভেতর থেকে গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট হাজতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রোববার (২ আগস্ট) মামুন নামের ওই হাজতিকে সিএমএম ১১ নম্বর আদালতে নিয়মিত শুনানির জন্য হাজির করা হয়। শুনানি শেষে হাজতখানায় ফিরিয়ে নেওয়ার সময় আদালত চত্বরে থাকা তার স্বজনরা তাকে খাওয়ার জন্য একটি পাউরুটি দেন। ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের এসকর্ট কনস্টেবলের তত্ত্বাবধানে তাকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় গেটে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত হাজত ইনচার্জের সন্দেহ হলে পাউরুটিটি পরীক্ষা করা হয়। এ সময় পাউরুটির ভেতর থেকে কাগজে মোড়ানো তিনটি গাঁজার পুরিয়া এবং তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। পরে সেগুলো জব্দ করা হয়। ঘটনার পর হাজত ইনচার্জ এসআই মোর্শেদ আলম ও আদালত পুলিশের কর্মকর্তারা বিষয়টি ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেলকে অবহিত করেন।
দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল শাহেদ জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যেন কোনো খাবার বা প্যাকেট ভেতরে নেওয়া না হয়। তবে আসামির স্বজনদের বারবার অনুরোধ ও চাপের মুখে মানবিক দিক বিবেচনা করে তিনি পাউরুটিটি আসামির কাছে যেতে দিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, হাজতখানার গেটে তল্লাশির সময় মাদক উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।
ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানান, তল্লাশিতে প্রথমে কিছু পাওয়া না গেলেও পরে পাউরুটির গায়ে ছোট ছিদ্র দেখে তা খুঁটিয়ে দেখা হয়। এ সময় ভেতর থেকে মাদক উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, খাবার দেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং হাজতিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে বা জেলখানা থেকে আদালতে আসামি আনা-নেওয়ার সময়ও এ ধরনের ঘটনা ঘটে, যার তদারকির দায়িত্ব মূলত কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সদস্যদের।

