চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্ত ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার দুজন আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে জড়িত। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. দিদার আলম (৩০) ও মো. আফসার মিয়া (৩০)।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ জুন মহানগরের পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২ আগস্ট রাত ৭টার দিকে সীতাকুণ্ড থানার শীতলপুর এলাকায় শাহ আমিন উল্লাহ ফিলিং স্টেশনের সামনে স্থাপিত বিশেষ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি দিদার আলম ও আফসার মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড ও অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরে ৩ আগস্ট রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে রাউজান থানার ৭ নম্বর রাউজান ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রাউজান (জুরুলকুল) এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে আমির হোসেন ফকির বাড়ির জনৈক মানিকের বসতঘরের পেছনে সেফটি ট্যাংকের পাশে মাটির নিচে সাদা প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৭.৬৫ ক্যালিবারের দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার দিদার আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মোট ১০টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে আফসার মিয়ার বিরুদ্ধে একই ধরনের অপরাধে ৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত একাধিক অপরাধের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
গ্রেপ্তার দিদার আলম রাউজান সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রাউজান, শমশেরনগর, বেপারীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা শাহাব উদ্দিন ও মা মুন্নি আক্তার। অপর গ্রেপ্তার আফসার মিয়া একই এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মৃত অছিউর রহমান ও মা মৃত রানী। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।

