কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ত্রিভুজ প্রেমের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে হৃদয় (২৪) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত হৃদয় পেশায় একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করেছে।
নিহত হৃদয় চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের প্রয়াত হেদায়েত উল্লাহর ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃতরা হলেন, একই ইউনিয়নের ঘোষতলা গ্রামের নজির আহম্মেদের ছেলে নুরুল আমিন পানসি (২৫), আফতাব উদ্দিন খন্দকারের ছেলে তাহমিদ আহমেদ খন্দকার প্রান্ত (২৮) এবং পার্শ্ববর্তী জগন্নাথদিঘি ইউনিয়নের গাংরা গ্রামের প্রয়াত আবদুল হালিমের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (৫৯)।
ঘটনার বিস্তারিত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক প্রবাসীর স্ত্রী, যার ছদ্মনাম প্রিয়া, শাকতলা গ্রামের রাকিব এবং ঘোষতলা গ্রামের প্রান্ত—এই দুজনের সঙ্গেই প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি ওই নারী রাকিবের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে রাকিবের ধারণা হয় যে, প্রান্তের কারণেই তার সঙ্গে প্রিয়ার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
এই ধারণার বশবর্তী হয়ে এবং ক্ষুব্ধ হয়ে গত বুধবার রাতে রাকিব তার কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ধোড়করা পূর্ব বাজারে যান। সেখানে রাকিব ও প্রান্তের পক্ষের লোকজনের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে রাকিবের বন্ধু হৃদয় প্রতিপক্ষের হামলায় ছুরিকাহত হন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পথেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের পদক্ষেপ
পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রান্ত, পানসি এবং তাদের সহযোগী জসিম উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওসি মো. আরিফ হোসেন আরও জানান, ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংশ্লিষ্ট নারীকে (প্রিয়া) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল, তবে পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
