জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ‘স্মৃতিতে ৩৬ জুলাই এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা অডিটোরিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই যোদ্ধারা’, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মামুন অর রশিদ। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বর্তমান সময়কে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর অর্জিত এই স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে টিকিয়ে রাখতে ঐক্য, ধৈর্য ও সহনশীলতার কোনো বিকল্প নেই। তিনি সবাইকে অনর্থক বিভেদ এড়িয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
উপাচার্য আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে হামলাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে এই প্রক্রিয়াটি কোনো প্রতিহিংসার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সুষ্ঠু তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন করা হবে যাতে কেউ অবিচারের শিকার না হন। তিনি সবাইকে মিলে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. আবদুল আলিম বছিরের সভাপতিত্বে এবং ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ও সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল। এছাড়া জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন মার্কেটিং বিভাগের মাসুদ রানা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৌসিফ আলম খান, ইংরেজি বিভাগের সুমাইয়া খাতুন এবং ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মুহাম্মদ শাহীর খান ও রবিউল খান। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি হাসিব, বাংলাদেশ ছাত্রশক্তির সভাপতি বেলাল হোসেন এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের প্রতিনিধি এডিসন বৌদ্ধ বক্তব্য রাখেন।

