জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবা ভাতা নিচ্ছেন মহিলা ইউপি সদস্য

**জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবা ভাতা নিচ্ছেন মহিলা ইউপি সদস্য**

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে এক মহিলা ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তার জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবা ভাতা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বকুল আক্তার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। তার স্বামী মো. আজগর আলী বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলোনী গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বকুল আক্তার নিজে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হওয়ায় এবং সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মীদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে এই ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের বিধবা ভাতা উপকারভোগীদের তালিকা থেকেও এই তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে বকুল আক্তার বলেন, তার এক মেয়ে প্রতিবন্ধী এবং ভাতার টাকা সেই খায়। তিনি দাবি করেন, ডিসি স্যার নিজে তাকে এমনটা করতে বলেছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শফিক মিয়া বলেন, ইউপি সদস্য বকুল আক্তারের স্বামী জীবিত আছেন এবং স্ত্রীর রোজগারে চলেন। জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবা ভাতা নেওয়া কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বকুল আক্তার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হওয়ায় স্থানীয় ইউনিয়ন সমাজকর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এসব ভাতার বই তৈরি করেছেন। অতীতেও তাদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে ভাতার কার্ড তৈরি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসাইন নিশ্চিত করেছেন যে, বকুল আক্তার যখন নির্বাচিত হয়েছিলেন তখন তার স্বামী জীবিত ছিলেন না, তাই তিনি ভাতার সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি শুনেছেন যে বকুল আক্তার বর্তমানে পুনরায় বিবাহ করেছেন। তবে, চেয়ারম্যান জানান যে তারা এখনো কোনো প্রমাণ পাননি এবং প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোয়ারাবাজার উপজেলা সমাজসেবা অফিসার (অতি:দা) শফিউর রহমান বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যে তথ্য দেওয়া হয়, তার ভিত্তিতে তারা কাজ করেন। তবে স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় বিধবা ভাতা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, ইউপি সদস্য বকুল আক্তারের বিষয়টি যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ জানিয়েছেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিধবা ভাতা নেওয়া একটি গুরুতর অপরাধ। যারা অবৈধভাবে ভাতা নিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।