বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে ইংল্যান্ডের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে লিড নিয়েও শেষ মুহূর্তে দুই গোল হজম করে ইংল্যান্ডের বিদায় নিশ্চিত হয়। ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে তোপের মুখে পড়েছেন কোচ টমাস টুখেল।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে ইংল্যান্ড এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এরপরই টুখেল ড্যান বার্ন এবং এজরি কনসাকে মাঠে নামিয়ে পাঁচজনের রক্ষণভাগ তৈরি করেন, যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড 'দ্য সান' এই হারের জন্য কোচকে দায়ী করে 'লস্ট হিজ টাচ?' এবং 'টমাস ট্যাঙ্কড ইট' শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ইংল্যান্ড সমর্থকদের জন্য এই হার যেন পুরোনো অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি। এর আগে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে এবং ইউরো ২০২০ ফাইনালে ইতালির কাছেও একইভাবে লিড ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল দলটি। 'দ্য ডেইলি মেইল' টুখেলের সমালোচনা করে লিখেছে, সাবেক কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের আমলের নেতিবাচক কৌশলই যেন ফিরে এসেছে। সংবাদমাধ্যমটির মতে, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে টুখেলের সিদ্ধান্তগুলো ইংল্যান্ডকে জয়ের পথ থেকে বিচ্যুত করেছে।
দ্য টাইমসের কলামিস্ট মার্টিন স্যামুয়েল মন্তব্য করেছেন যে, টুখেল আগের ব্যর্থ কোচদের মতোই রক্ষণাত্মক মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইউরো ২০২৪ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর টুখেল নিজেই বলেছিলেন, ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা জয়ের চেয়ে হারার ভয়ে বেশি ভীত ছিল। স্যামুয়েলের মতে, এখন সেই একই হতাশাজনক পরিণতির পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরো ২০২৮ পর্যন্ত চুক্তি থাকায় টুখেলের চাকরি আপাতত নিরাপদ বলেই মনে হচ্ছে। 'দ্য মিরর' পত্রিকা তাদের শিরোনামে জানিয়েছে, পরাজয় সত্ত্বেও টুখেল ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবেই থাকছেন। স্পেনের ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইংল্যান্ডের এই কৌশলকে 'কাপুরুষোচিত' বলে অভিহিত করেছেন।

