দীর্ঘ ৬০ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে তাদের সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নাটকীয় পরাজয়ের পর চোখের জলে আসর থেকে বিদায় নিতে হলো হ্যারি কেইনদের।
ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। থ্রি লায়ন্সরা এই লিড ধরে রেখে ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল। তবে খেলার ৮৫ মিনিটে লিওনেল মেসির প্রথম অ্যাসিস্ট থেকে বল পেয়ে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ১-১ সমতায় ফেরান চেলসি তারকা এনজো ফের্নান্দেস। এরপর যখন ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে লিওনেল মেসির দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট থেকে বল পেয়ে ইংল্যান্ডের জাল কাঁপিয়ে দেন বদলি নামা স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেস। এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন জানান, প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণ ঠেকাতে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা মরিয়া হয়ে লড়াই করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। তিনি বলেন, গর্ডনের গোলের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। কেইন বলেন, 'আমরা প্রতিপক্ষের উপর চাপ তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আমরা ভালোভাবে চাপ সৃষ্টি করেছিলাম, যা আমাদের ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করেছিল।'
কেইন আরও যোগ করেন, 'গোল হওয়ার পর হয়তো তারা সামনে বেশি খেলোয়াড় নিয়ে এসেছিল, অথবা আমরা তাদের সঙ্গে তাল মেলাতে পারিনি। এরপর একের পর এক আক্রমণ আসতে থাকে। ছেলেরা ব্লক করার চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট ছিল না।' মূলত গর্ডনের গোলের পরই ম্যাচের চিত্র বদলে যায় এবং প্রতিপক্ষের ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে বারবার চাপের মুখে পড়তে হয় বলে জানান তিনি।

