আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল থেকে ইংল্যান্ডের বিদায় নেয়ার পর স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ম্যাচ শেষে মাঠের মধ্যে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে হতাশায় মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তার পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় তার স্ত্রী মেগান পিকফোর্ডকে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই ৩০ বছর বয়সী মেগানকে বিষণ্ন মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
শুধু পিকফোর্ড দম্পতিই নন, ইংল্যান্ডের অন্যান্য খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও সঙ্গিনীদেরও (যাদের ইংরেজিতে ওয়াগ বা ওয়াইফ এন্ড গার্লফ্রেন্ড বলা হয়) গ্যালারিতে আবেগপ্রবণ দেখা যায়। এবেরেচি এজের স্ত্রী নাইমা করবিন এবং অলি ওয়াটকিনসের স্ত্রী এলিকেও তাদের সঙ্গীদের জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়। এছাড়া ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের স্ত্রী কেট কেইন এবং জুড বেলিংহ্যামের বান্ধবী অ্যাশলিন কাস্ত্রোকেও গ্যালারিতে বিষণ্ন মুখে বসে থাকতে দেখা গেছে।
ম্যাচ শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে মেগান ও অ্যাশলিনই প্রথম খেলোয়াড়দের পরিবারের সদস্য হিসেবে স্টেডিয়ামে পৌঁছান। জর্জিয়ার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই সেমিফাইনাল ম্যাচটিতে নাইমা করবিনও উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, স্টেডিয়ামের বাইরে হ্যারি কেইনের স্ত্রী কেটকে ছবি তুলতে দেখা যায়।
ম্যাচের আগে মেগান টিকটকে একটি ভিডিও পোস্ট করে ভক্তদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কোন পোশাক পরে স্টেডিয়ামে যাওয়া উচিত। প্রথমে তিনি জর্ডান পিকফোর্ডের জার্সি নম্বরসংবলিত একটি ফিটেড ফুটবল শার্ট এবং সাদা জিন্স পরে ভিডিও করেন, যার সঙ্গে ছিল লাল রঙের সেলিন বেল্ট ও সাদা শ্যানেল ব্যাগ। পরবর্তীতে তিনি কালো-সাদা রঙের একটি ছোট পোশাক পরেন, যার সঙ্গে ছিল লাল শ্যানেল ব্যাগ। ম্যাচের কিছু সময় আগে ইনস্টাগ্রামে সন্তানদের নিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন মেগান। সেখানে তিনি লেখেন, আজকের অনুভূতি- গো ড্যাডি। জর্ডান পিকফোর্ড ও মেগানের তিন সন্তান আর্লো, ওস্তারা ও মিস্টি বাবার নামে লেখা জার্সি পরে গ্যালারিতে ‘ড্যাডি, ড্যাডি’ বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল।
অন্যান্য ওয়াগদের মধ্যে অলি ওয়াটকিনসের স্ত্রী এলি ম্যাচের আগে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মাসকারার প্রচারণামূলক পোস্ট দেন এবং স্টেডিয়ামে যাওয়ার আগে নিজের পোশাকের ছবি শেয়ার করেন। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে হারানোর পর ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রিন্স উইলিয়াম বলেছিলেন, এটি একটি বিশেষ দল এবং এই ফল নিয়ে তার কোনো সন্দেহ ছিল না।

