পুরস্কার হিসেবে বৃক্ষ পেয়ে ২৫০ শিক্ষার্থী মহাখুশি

পরিবেশ সচেতনতা ও শিক্ষার এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়ে ব্যতিক্রমী এক পদক্ষেপ নিয়েছে জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষাভীতি দূর করা, তাদের ভালো ফলাফলের প্রতি অনুপ্রাণিত করা এবং একই সাথে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল অর্জনকারী ২৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের মলাই ফকির বাজার সংলগ্ন আমিন সেন্টারে অবস্থিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব বৃক্ষ উপহার হিসেবে বিতরণ করা হয়। গাছের চারা হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে উচ্ছ্বাস ও আনন্দের ঢেউ খেলে যায়।

বিদ্যালয়টির এমন অভিনব ও সময়োপযোগী উদ্যোগ সমাজের সর্বস্তরে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সবুজ ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি বিগত কয়েক বছর ধরেই শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষ বিতরণসহ নানা ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করে আসছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তন্ময় আলমগীর, উপদেষ্টা আল আমিন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুজিবুর রহমান মঞ্জু, সহকারী শিক্ষক আলাম নাশরাক নিলি, আব্দুল্লাহ আল সাদী লিয়ন, পান্না আক্তার, রিতা আক্তার, শাহীনা আক্তার ঝুনু, লামিয়া মীম, ইতি আক্তার, কণা আক্তারসহ শতাধিক অভিভাবক এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ।

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তন্ময় আলমগীর তার বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আমরা চাই তারা প্রকৃতিপ্রেমী ও পরিবেশ সচেতন মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠুক। বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের অভ্যাস এবং পরিবেশ রক্ষার মানসিকতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্য থেকেই প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে বৃক্ষ তুলে দিই।”

বিদ্যালয়ের উপদেষ্টা আল আমিন বলেন, “একটি শিশুর শিখন প্রক্রিয়া সফল করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য। জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সেই সমন্বয়কে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক ও পরিবেশবান্ধব মূল্যবোধ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে জানায়, বিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি কার্যক্রমই সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমধর্মী। তাদের কাছে বৃক্ষ উপহার শুধু একটি পুরস্কার নয়, বরং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার একটি অঙ্গীকার।

অভিভাবকেরাও বিদ্যালয়ের এই মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান সময়ে শিশুদের মোবাইল ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবন থেকে বের করে প্রকৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা খুবই প্রয়োজন। গাছের চারা উপহার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত