পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র শিক্ষার্থীদের দিয়ে মূল্যায়নের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএম) কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক রিপন হোসেন নিজের দায়িত্বের অংশ হিসেবে পাওয়া উত্তরপত্রগুলো নিজে মূল্যায়ন না করে কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে করিয়েছেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ওই কলেজের শ্রেণিকক্ষে বসে দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী উত্তরপত্রের স্তূপের সামনে বসে কাজ করছে। তাদের মধ্যে একজনকে পরীক্ষার কোড ও বিষয় কোড পূরণ করতেও দেখা যায়।
অভিযুক্ত শিক্ষক রিপন হোসেন অবশ্য অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, পরীক্ষার কোড ও বিষয় কোড লেখার ঘর ফাঁকা রেখে তিনি ওয়াশরুমে গিয়েছিলেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজে থেকেই সেখানে কোড লিখতে শুরু করে। ফিরে এসে তিনি তাদের কাছ থেকে খাতাগুলো নিয়ে নেন। তিনি কাউকে এমন কাজের অনুমতি দেননি বলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ মানজুরের কাছেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপন হোসেনের কাছে আসা একগুচ্ছ উত্তরপত্র তিনি শিক্ষার্থীদের দিয়েই মূল্যায়ন করিয়েছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবুল কালাম আজাদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব কেবল সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের। অন্য কোনো ব্যক্তি বা শিক্ষার্থীকে দিয়ে এই গোপনীয় কাজ করানোর কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মজিবুর রহমান এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয়তার লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাঙ্গাবালী উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার অনাদি কুমার বাহাদুর নিশ্চিত করেছেন যে, মঙ্গলবার অভিযোগের তদন্তে কলেজ পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে জেলা কর্তৃপক্ষকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হবে।
বেঞ্চ ও পাশের চেয়ারে উত্তরপত্রের স্তূপও দেখা যায়।.বন্ধুদের নিয়ে চায়ের দোকানে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা দেখছিলেন শিক্ষক, ৪০০ খাতা জব্দ.তবে উত্তরপত্র নিজেই মূল্যায়ন করেছেন বলে দাবি করেন প্রভাষক রিপন হোসেন।

