প্রতিরক্ষায় কোনো ছাড় দেবে না ইরান
নিজের দেশের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতায় বসবে না ইরান—এমনটাই দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার শক্তিশালী বলেই দেশটি গাজার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর যুদ্ধ থামাতে সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সেই রেশ ধরেই পাকিস্তানের মাটিতে দাঁড়িয়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যেকোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেন তিনি।
প্রতিরক্ষাকে অস্তিত্বের রক্ষা কবচ মনে করে ইরান
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে কিংবা যে কোনো পক্ষের সঙ্গে ইরান তার প্রতিরক্ষা শক্তি নিয়ে কোনো কথা বলবে না। তার ভাষ্যমতে, নিজেদের সুরক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি না করা হলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গেও গাজার মতো আচরণ করত, যেখানে কোনো শিশু বা বৃদ্ধকে ছাড় দেওয়া হতো না। এ সময় তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর মানবাধিকারের দাবিকে বড় ধরনের মিথ্যাচার বলে অভিহিত করেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের সেই যুদ্ধ অবসানে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বা ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের বিশেষ সহযোগিতায় এই আলোচনা সফল হয়েছে। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে এটিই ইরানের প্রেসিডেন্টের প্রথম বিদেশ সফর।
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ও আঞ্চলিক শান্তি
সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্টের এই সফরকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও আন্তরিক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। যুদ্ধ শেষ হওয়ায় পুরো অঞ্চল বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং পাকিস্তান এই শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে পেরে আনন্দিত।
একই সঙ্গে তিনি আগামী সপ্তাহে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরান সফরের ঘোষণা দেন। অন্যদিকে, সংকটের সময়ে পাশে থাকার জন্য পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সৌদি আরব, কাতার, মিশর ও তুরস্কের মতো মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।
