মার্কিন হামলার জবাবে ৮৫ ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইরানের তিনটি প্রধান শহর ও একাধিক সামরিক অবস্থানে মার্কিন বিমান বাহিনী ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করেছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মার্কিন বাহিনী ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন উপকূলীয় শহরগুলোতে এই জোরালো অভিযান পরিচালনা করে। হামলায় কৌশলগত কেশম দ্বীপের অন্তত সাতটি সামরিক অবস্থান, হরমুজ প্রণালির নজরদারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিরিক শহরের ছয়টি অবস্থান এবং বন্দর আব্বাসের ১০টি স্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়। বন্দর আব্বাসের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে সামরিক টেলিযোগাযোগ টাওয়ারও রয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান পরমাণু পরিকল্পনাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই মার্কিন হামলাকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকের মারাত্মক লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ, নতুন হামলার হুমকি, ইরানের তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও লেবাননে ইসরায়েলের চুক্তি লঙ্ঘন এই পরিস্থিতিকে উসকে দিয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জোরপূর্বক দাবি আদায়ের দিন শেষ এবং এই ধরনের চাপে ইরানকে দমানো সম্ভব নয়।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের পাল্টা হামলায় আক্রান্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর মধ্যে বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি অন্যতম। এছাড়া দক্ষিণ ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের দায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে।