জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সবার হলে কেন এত রাজনীতিকরণ করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বুধবার রাতে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ‘দ্রোহের জুলাই: স্মৃতি প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও স্মৃতি সম্মেলন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দ্য ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস, বাংলাদেশ (এফইএবি) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ প্রকৌশলীদের স্মরণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই জুলাই আমাদের সকলের যদি হয়, তাহলে জুলাইকে আমরা কেন রাজনীতিকরণ করব? এটা তো হওয়া উচিত নয়।’ তিনি সরকারের প্রতি সব ক্ষেত্রে দলীয়করণের চিন্তা পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে হলে আগে মনোজগতে পরিবর্তন আনতে হবে। সবাইকে ধারণ করতে হবে এবং যার যেটুকু সম্মান পাওনা, তাকে সেটুকু সম্মানিত করতে হবে।
জামায়াত আমির একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য চাই। তবে কথা পরিষ্কার, আমার সন্তান যে কাজ করলে বীর, অন্যের সন্তান সে কাজ করলে বীর স্বীকৃতি দিতে হবে। অন্যের সন্তান যে কাজ করলে আমি তাকে সন্ত্রাসী বলব, আমারটাও করলে তাকেও সন্ত্রাসী বলতে হবে। একই কাজের জন্য একজনকে বীর আর আরেকজনকে সন্ত্রাসী বলা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, এখনো সব জায়গায় ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া দেখা যাচ্ছে। ফ্যাসিবাদী আমলে বিচার বিভাগ, শিক্ষাঙ্গন, নির্বাচন ও পেশাগত জীবনে মানুষ যে বৈষম্য ও নিগ্রহের শিকার হয়েছিল, সেই ভূত এখনো বিদ্যমান। এটা বদলাতে হবে। ২০২৪ সালে সব বয়স, দল ও ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় ফ্যাসিবাদ পরাজিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের পরে তারা চুপ হয়ে গিয়েছিল। জুলাই মাসে ছাত্রদের আন্দোলনের আগে কোনো রাজনৈতিক দল আন্দোলন করেনি। যুবসমাজ জেগে না উঠলে এবং রাজনৈতিক দলগুলো তাদের পাশে না দাঁড়ালে শুধু আন্দোলন নয়, ছেলে-মেয়েগুলোও নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত।
শফিকুর রহমান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ ফ্যাসিবাদী আমলে আন্দোলনে নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, তাদের রাষ্ট্রীয় খেতাব ও পরিবারগুলোকে নিরাপত্তা দিতে হবে। অভ্যুত্থানে আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাদেরও রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করতে হবে। গণভোটের ব্যাপারে কোনো আপস করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা লঙ্ঘন করা হবে না এবং গণভোটের গণরায় বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হবে।
অনুষ্ঠানে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গত দুই বছরে জাতীয় ঐক্য কিছুটা বিনষ্ট হয়েছে। অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই দুঃখজনক অধ্যায় এড়ানো যেত, যদি গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে সবগুলো অনুষ্ঠান আলাদা না করে ঐক্যবদ্ধভাবে করা হতো। জনগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য দেখতে চায়, তাই দলগুলোকে ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফইএবির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা এবং সঞ্চালনা করেন ফোরামের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি মো. সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য আবদুল মান্নান, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ আল আমিন এবং শহীদ সেলিম তালুকদারের বাবা সুলতান তালুকদার।

